মো. সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত। 

(প্রিয়.কম) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদ্দাম হোসেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় এখন বহুল আলোচিত সেলফ প্রটেক্ট অ্যাপের উদ্ভাবক হিসেবে। তিনি সেলফ প্রটেক্ট অ্যাপ উদ্ভাবন করায় ২০১৭ সালে মেহেরপুর জেলা  ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলাতে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবক ও খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলাতে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের সম্মানান ও সনদ লাভ করেন এবং তিনি জাতীয় পর্যায়ে মনোনিত হয়েছেন। তাঁর এই আলোচিত অ্যাপ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে প্রিয়.কমের সাথে। 

প্রিয়.কম: 'সেলফ প্রটেক্ট' অ্যাপ কী?

মো. সাদ্দাম হোসেন: নাগরিক নিরাপত্তা, জরুরি সাহায্য ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি সংস্থাকে সহায়তাকারি মোবাইল অ্যাপ। 

প্রিয়.কম: এ ধরনের অ্যাপ বানানোর চিন্তা কীভাবে এলো?

মো. সাদ্দাম হোসেন: মোবাইল ফোনে যখন জিপিএস (গ্লোবাল পজিসনিং সিস্টেম) সম্পর্কে আমি জানতে পারি, তখন থেকেই মোবাইলের জিপিএস ব্যবহার করে বিপদের সময় খুব দ্রত আমার লোকেশন কিভাবে আমাকে সাহায্য করতে পারবে এমন কারও কাছে পাঠাতে পারি। এই নিয়ে গবেষণা করতে থাকি। এর মধ্যে ২০১২ সালের মার্চ মাসের একদিন চুয়াডাঙ্গার রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধারাতে বাসায় (মেহেরপুর) ফিরছিলাম। হঠাৎ ৭-৮ জনের ছিনতাইকারির কবলে পড়ি। ছিনতাইকারিরা আমার কাছে থাকা মানিব্যাগসহ মোবাইলফোনটা ছিনতাই করে নেয়। মোবাইলটার জন্য একটু বেশি মন খারাপ হচ্ছিল। কারণ মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার ছিল। ঠিক তখনই আমার মাথায় একটা আইডিয়া আসে আমার মত প্রতিদিনি অসংখ্য মানুষ ছিনতাইকারি কিংবা অপহরণকারির কবলে পড়ছে। এ ধরনের অপরাধীদের কাছ থেকে কি আমাদের রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নাই? তারপর মনে হল যে আমার কাছের স্মার্টফোনে যদি এমন একটা অ্যাপ (সফটওয়্যার) থাকত যেটার মাধ্যমে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটা বাটন চাপার মাধ্যমে আমার বিপদের কথা জানাতে পারতাম। তাহলে হয়ত আমি ছিনতাইকারিদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারতাম বা আমার মোবাইল ফোনটা ফিরে পেতাম। সেদিন থেকেই গবেষণা শুরু করি এবং আমার এই আইডিয়াটিকে মোবাইল অ্যাপে বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করি। এরপর আমি মোবাইল অ্যাপটি ডেভলপমেন্ট করতে থাকি। 

প্রিয়.কম: কবে থেকে অ্যাপটি নিয়ে কাজ করছেন? কতদিন লেগেছে অ্যাপটি তৈরি করতে?

মো. সাদ্দাম হোসেন: আমার গবেষণার প্রাথমিক সময় বলতে যখন মোবাইল ফোনে জিপিএস সিস্টেম দেখেছিলাম তখন থেকেই এ ধরনের আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করি। ২০১২ সাল থেকেই জিপিএস ব্যবহার করে বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির অবস্থান জানার আগ্রহ থেকেই জননিরাপত্তামূলক সফটওয়্যার অ্যাপ (অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার) তৈরি করার কাজ করতে থাকি। ওই আইডিয়া থেকেই আজ আমি অপরাধ দমন ও নিরাপত্তামূলক মোবাইল অ্যাপ ‘সেলফ প্রটেক্ট’ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশব্যাপী পরিচালিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচীর আওতায় সারা দেশের ন্যায় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ৫ দিনব্যাপী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করি। এই প্রশিক্ষণ থেকেই মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করি। মোবাইল অ্যাপ তৈরির ৫ দিনের প্রাপ্ত প্রশিক্ষণের পর থেকে উদ্বাবনী কাজ করার জন্য এবং অন্যান্য অ্যাপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স আমি ইন্টারনেট থেকে শিখছি। অ্যাপ ডেভলোপমেন্ট করতে গিয়ে যে কোন সমস্যায় পড়লে ইন্টারনেট থেকে সাহায্য পেয়েছি এবং আমার প্রশিক্ষকদের কাছে থেকে সাহায্য নিয়েছি। আরও অ্যাপটিকে ব্যবহার উপযোগী হিসেবে উন্নয়নে পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করেছেন আমার মোবাইল অ্যাপ তৈরির প্রশিক্ষক কৃষ্ণ রায় মিথুন ও ফারুক আহমেদ জুয়েল ভাই (পরামর্শক, এটুআই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)। এটি ডেভলোপমেন্ট করতে ২ বছরের বেশি সময় লেগেছে। প্রাথমিক দিকের বছরটি  আইডিয়া পর্যায়ে। তারপরের বছরটি ডেভেলপমেন্ট করেছি এবং এখনও এটিকে কিভাবে আরো সহজে ব্যবহার উপযোগী ও সহজিকরণ করা যায় তা উন্নয়ন করার চেষ্টা চলছে।

প্রিয়.কম: অ্যাপটি জনসাধারণ কেন ব্যবহার করবে? 

মো. সাদ্দাম হোসেন: আমাদের চারপাশে নানা কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন, মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং, চাঁদাবাজি, ভাড়াটে খুন, প্রতারণা, মানব পাচার, ডাকাতি, দুর্নীতি, কালো বাজারি, রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদি সংঘঠিত হয়। এসব অপরাধের প্রভাবে সাধারণের নিরাপত্তা ব্যাহত হয়। যা আমাদের জীবনকে বিপন্ন করে। এসব অপরাধ থেকে নিজেকে রক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা দিতে পারে ‘সেলফ প্রটেক্ট’ অ্যাপ। যেকোন মূহুর্তে আপনার চারপাশে এমনকি নিজের সাথে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ বিপদের মত ঘটনা। অথবা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাস আপনাকে আক্রমণ করতে এগিয়ে আসছে আপনি নিরাপদ আশ্রয় পেতে ও সাহায্যের জন্য ব্যাকুল হচ্ছেন কিন্তু কোন উপায় নেই। ঠিক এ রকম মূহুর্তে আপনার কাছে থাকা র্স্মাটফোনে ‘সেলফ প্রটেক্ট’ অ্যাপটি ইনস্টল করা থাকলে আপনি দ্রুত নিকটবর্তী আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সহায়তা পাবেন এবং আপনি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে নিজেকে এবং আশেপাশের সংঘটিত হওয়া বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন। 

সেলফ প্রটেক্ট অ্যাপ দেখতে যেমন। ছবি: প্রিয়.কম। 

প্রিয়.কম: অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে?

মো. সাদ্দাম হোসেন: অ্যাপটি মোবাইলে (স্মার্টফোনে) ইন্সটল করতে হবে। অ্যাপটির দুটি অংশ। একটা হচ্ছে ক্লায়েন্ট বা ইউজার অ্যাপস বা সবার কাছে যে অ্যাপটি থাকবে সেই অ্যাপটি আরেকটা হচ্ছে ওয়েব অ্যাপ নোটিফিকেশন রিসিভার অ্যাপস যেটি পুলিশের কাছে বা পুলিশ স্টেশনে থাকবে। এখানে এরপর অ্যাপটি এনেবল ( সক্রিয়) করতে হবে। নির্দিষ্ট বক্স আছে ওখানে টিক চিহ্ন দিয়ে সক্রিয় রাখতে হবে। অ্যাপটির নিবন্ধন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। যেখানে ব্যবহারকারীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং নম্বর ভেরিফিকেশন কোড, ই-মেইল, ব্লাড গ্রুপ, ঠিকানা প্রদান করে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপটির সেবা পাওয়ার জন্য অ্যাপটিকে সবসময় সক্রিয় রাখতে হবে। যাতে করে নির্দিষ্ট পাওয়ার বাটনে পরপর যেকোন বিপদের সময় চাপার সাথে সাথে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের ওয়েব অ্যাপে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বার্তা (নোটিফিকেশন) পৌঁছাবে। প্রথমে বিপদে পড়লে বা অপরাধীর আক্রমণে পড়লে বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির (ভিকটিম) কাছে থাকা মোবাইল ফোনের বাটন চাপার মাধ্যমে নোটিফিকেশনটি সেন্ট্রাল সার্ভারে পৌঁছাবে, তারপর সেন্ট্রাল সার্ভার ব্যবহারকারীর প্রথমে সার্চ (খুঁজবে) করবে যে ব্যক্তিটির সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনটির ওয়েবঅ্যাপ কোনটি। তারপর সেই অ্যাপটিতে বা ভিকটিমের (ক্ষতিগ্রস্থ) ব্যক্তির অ্যাপের মাধ্যমে জিপিএস (গ্লোবাল পজিসনিং সিস্টেম) এ ট্র্যাক বা চিহ্নিত করবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিটি কোন জায়গায় অবস্থান করছে। তারপর সেই জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ মানসহ অ্যাপের মাধ্যমে ভিকটিমের বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিটির আশে পাশের শব্দ রেকর্ডিং বা ধারণ ও ছবি সংগ্রহ করে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের অ্যাপে প্রেরণ করবে। এই বার্তা বা নোটিফেকেশন পাওয়ার পরপরই সার্ভার, রিসিভার বা পুলিশের কাছে বা পুলিশ স্টেশনে থাকা অ্যাপে পপ-আপ শব্দ করে জানিয়ে দেবে। এরপর মোবাইলের বা স্মার্টফোনের পর্দায় বা ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিনে  বিপদগ্রস্থ (ভিকটিমের) ব্যক্তির অবস্থানরত এলাকার মানচিত্র, ধারণকৃত ছবি (ফুটেজ), শব্দ শোনা যাবে। যাতে করে পুলিশ-প্রশাসন বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত সাহায্য ও উদ্ধার করতে পারে এবং পুলিশ স্টেশনের ওয়েব অ্যাপের সাথে দায়িত্বরত বা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও একই বার্তা পৌঁছে যায়। 

প্রিয়.কম: অ্যাপটি ব্যবহারের নিয়ম কী?

মো. সাদ্দাম হোসেন: যে কোন বিপদের সময় স্মার্টফোনের পাওয়ার বাটনটি পরপর ৩ বার প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলির কাছে ব্যক্তির অডিও, ফুটেজ এবং অবস্থান মানচিত্রসহ প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে যাবে। ফোন হারানো বা মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করলে ফোনটির অবস্থান, ব্যবহৃত নতুন সিমের সিরিয়াল নাম্বর ও ফোনের আইএমইআই নাম্বার অ্যাপে সেটআপকৃত ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলি নাম্বারে পৌঁছে যাবে। জরুরি সেবা যেমন পুলিশ স্টেশন, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, ব্ল্যাড ব্যাংক ইত্যাদির লোকেশনসহ যোগাযোগ নাম্বার নিতে পারবে। নিকটস্থ বাস-স্টান্ড, এটিএম বুথ, ব্যাংক, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ইত্যাদি অ্যাপ স্ক্রিণে পাওয়া যাবে। এবং ব্যবহারকারি তা থেকে তার প্রয়োজনীয় সেবাটা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা,  মানবাধিকার কমিশন, আইনী সহায়তা কেন্দ্র, দূর্নীতি দমন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় অভিযোগ এবং মতামত জানাতে পারবে। 

প্রিয়.কম: পুলিশ কীভাবে এই অ্যাপটি ব্যবহার করবে? 

মো. সাদ্দাম হোসেন: অ্যাপটি ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারির কোন ইন্টারনেট কানেকশন বা ডাটা অন থাকা লাগবে না। অর্থাৎ ব্যবহারকারির ইন্টারনেট কানেকশন অফ থাকলেও জিপিএস অন থাকার জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোবাইল অপারেটরের সাহায্যে বার্তাটি পুলিশ স্টেশনে পৌঁছাবে। তবে সার্ভার অ্যাপ্লিকেশনে বা পুলিশের কাছে থাকা অ্যাপে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। যেন ব্যবহারকারি বা ক্ষতিগ্রস্থ (ভিকটিমের) ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সমৃদ্ধ বার্তাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত স্থানটির গুগল মানচিত্রটি স্ক্রিনে দেখা যায়। মোবাইল ফোনটি ছিনতাইকারি নিয়ে যাওয়ার পর সিম পরিবর্তন করলে অ্যাপটি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই মোবাইল ফোনটির অবস্থান পুলিশের সার্ভার অ্যাপ্লিকেশনে চলে আসবে। এতে করে ছিনতাইকারীর অবস্থান জানা সম্ভব ও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। অ্যাপসটিতে ব্যবহারকারির জন্য টেস্ট মুড ও রিয়েল মুড অপশনও রাখা হয়েছে। যেন ব্যবহারকারী অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার থেকে রক্ষা পায়। অ্যাপটি অপব্যবহার বা মিস ইউজ করলে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য যেহেতু আ্যাপসটি ইন্সটল করার সময় দিতে হবে, সেজন্য ব্যবহারকারির তথ্য যেমন মোবাইল নম্বর নিবন্ধনকৃত হওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। তাই অ্যাপটির অপব্যবহারকারির বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিতে পারবে।

প্রিয়.কম: কবে নাগাদ অ্যাপটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে? 

মো. সাদ্দাম হোসেন: অ্যাপটি জননিরাপত্তামূলক ও অপরাধ দমনসংক্রান্ত হওয়ায় অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোর, উইন্ডোজ অ্যাপ স্টোর ও আইওএস অ্যাপ স্টোরে দিতে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। কারণ অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারিরা পুলিশ বা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রথমে জানাবে এবং বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিটিকে সহায্য করতে এগিয়ে আসবে। এজন্য সরকারের পুলিশ সদরদপ্তর ও আইসিটি মন্ত্রলায়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম (এটুআই) প্রকল্পে আবেদন করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হবে। 

প্রিয়.কম: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই। 

মো. সাদ্দাম হোসেন: সরকার যদি আমার উদ্ভাবিত এই অ্যাপটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করতে অনুমতি ও অ্যাপসটির নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে সহযোগিতা করেন, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের জনসাধারনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে আরো একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এবং আমার উদ্ভাবন সার্থক হবে। ইতিমধ্যে অ্যাপটি পাইলট প্রকল্প আকারে স্বাধীনতার সূতিকাগার আমার মেহেরপুর জেলায় প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়েনর জন্য পুলিশ সদর দফতর ও সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত আইসিটি ডিভিশন ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনে (এটুআই) আবেদন করেছি। এই ‘সেলফ প্রটেক্ট অ্যাপ’ উদ্ভাবনী প্রজেক্টটি আরো উন্নয়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও এসএমএস সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোবাইল অপারেটর সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে আসার পর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্যার আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, এই অ্যাপটি সরকারিভাবে কার্যকর করতে তিনি সহায়তা করবেন। 

সম্পাদনা: গোরা