(প্রিয়.কম) বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সেই ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল। মায়ায় ভরা মুখ তার। দুষ্টু মিষ্টি সব দস্যিপনায় পরিবারের সবাইকে ব্যস্ত করে রাখত সে। সবার আদর ভালোবাসায় বেড়ে উঠছিল এই শিশুটি, যার পিতা বাংলাদেশ নামক আরেকটি শিশু রাষ্ট্রেরও পিতা। তার বয়স যখন ১০ পেরিয়ে প্রায় ১১ বাংলাদেশের বয়স তখন মাত্র ৪ ছুঁই ছুঁই। তখনি এলো সেই ভয়াবহ দিন। বঙ্গবন্ধু হয়ত কোনোদিন ভাবতেও পারেননি তার স্বপ্নের স্বাধীন এই দেশের সন্তানেরা শুধু তাকে নয় তার পুরো পরিবারকে হত্যা করবে নির্মমভাবে।

শেখ রাসেল
সবুজ রাসেল পার্ক। ছবি- রিপন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল সেনা কর্মকর্তা অতর্কিত হামলা করেন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে হত্যা করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ছোট্ট রাসেলকে নিয়ে বাড়ির এক কর্মচারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। কিন্তু ধরা পড়ে যান তিনি। খুনিদের চেহারা দেখে আতঙ্কিত রাসেল যেতে চান মায়ের কাছে। তাকে দেখানো হয় মায়ের মৃতদেহ! রাসেল তখন খোঁজেন প্রিয় বড় বোন হাসু আপাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)। তার আকুতি ঘাতকদের মনে কোনও দয়া উদ্রেক করেনি। তাদের হিংস্র বুলেট সেদিন থামিয়ে দেয় এই শিশুর দুরন্ত পথচলা।

শেখ রাসেল    শিশুদের জন্য খেলার নানান ব্যবস্থা। ছবি- রিপন। 

রাজনৈতিক বিষ বাষ্পের বলি হল রাসেল। বার্টান্ড রাসেলের নামে নাম ছিল তার। কতটুকুই বা পৃথিবী দেখেছিল সে? কিন্তু তাই বলে কি থেমে ছিল তার স্বপ্ন দেখা? হয়ত ছোট্ট চোখ জোড়া ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু করার স্বপ্নই দেখত! আর দেখবেই বা না কেন? সে তো আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে, তার মতোই সাহসী, দরদী মন তার। শৈশব পেরিয়ে কৈশোর আসেনি রাসেলের জীবনে। রাসেল যেন দুরন্ত মায়াভরা শৈশবের প্রতীক। তাই তাকে স্মরণ করে টুঙ্গীপাড়ায় তার পিতার সমাধিক্ষেত্রের পরই তৈরি করা হয়েছে শেখ রাসেল শিশু পার্ক।

শেখ রাসেল    নাগোরদোলায় খুশিতে মেতে ওঠে শিশুরা। ছবি- রিপন। 

শেখ রাসেল  আছে বড় একটি মুক্তমঞ্চ। ছবি- রিপন। 

 

শেখ রাসেল
বিশাল এই পুকুর পার্কের আবহাওয়াকে রাখছে সার্বক্ষণিক শীতল। ছবি- রিপন।

শেখ রাসেলপুকুরেও আছে বিনোদনের ব্যবস্থা। ছবি- রিপন।

বাচ্চাদের খেলাধুলার নানান আয়োজন আছে পার্কে। গোপালগঞ্জের শিশুদের জন্য এটি এখন একটি জনপ্রিয় স্থান। যে কোনও ছুটির দিনে পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে বাবা মায়েরা ভিড় করেন এখানে। কাছেই মধুমতী নদী। সবমিলিয়ে ভ্রমণটা কিন্তু মন্দ নয়, বরং এখানকার পরিবেশ বেশ নিরাপদ বলেই জানান স্থানীয়রা।

প্রিয়.কম ট্রাভেল টিমের পক্ষ থেকে আমরা গিয়েছিলাম টুঙ্গীপাড়া। শিশু রাসেলের স্মরণে করা পার্কটি দেখে প্রকৃতই মুগ্ধ হই। আসছে শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানের পর বাকি সময়টা কাটাতে পারেন এখানে। নিরিবিলি সবুজ পার্কটি সবসময়ই থাকে ফুলে ফুলে রঙ্গিন। শিশুদের রঙিন শৈশবেরই প্রতিচ্ছবি এটি।

সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান। ভ্রমণ সম্পর্কিত আরও জানতে চোখ রাখুন আমাদের প্রিয় ট্রাভেলের ফেসবুক পাতায়। ভ্রমণ নিয়ে আপনার যেকোনো অভিজ্ঞতা, টিপস কিংবা লেখা পোস্ট করুন আমাদের সাইটে আর জিতে নিন একজন সঙ্গী নিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিমান টিকেটসহ দুই রাত, তিন দিন অভিজাত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা। আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন  [email protected] এই ঠিকানায়।