শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার

'কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভাসহ ছয় ইউনিয়নের সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে।'

সানী ইসলাম
কন্ট্রিবিউটর, শেরপুর
১২ আগস্ট ২০১৭, সময় - ১৯:০৪

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দু'দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর ১০ স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছ। এতে পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬ হাজার পরিবার।

ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১১ আগস্ট শুক্রবার রাত থেকে ১২ আগস্ট শনিবার দুপুর পর্যন্ত পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের ১০ স্থানে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে পৌরশহরের শিমুলতলা এলাকায় ২০০ ফুট, বাসস্টেশন এলাকায় ৩০০ ফুট, খালভাঙ্গা ও নিচপাড়া এলাকায় ৫০০ ফুট ভেঙ্গে যায়। এই চার এলাকার প্রায় ৮০০ পরিবারে বাড়ি ঘর পানিতে প্লাবিত হয়।

উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের খলাভাঙ্গা গ্রামের এক হাজার ১০০ ফুট, ফকির পাড়া গ্রামে ২০০ ফুট ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ভোগাইপাড়, বাঁশকান্দা, মরিচপাড়ান ও পশ্চিম মরিচপুরান গ্রামের দুই হাজার ৫০০ পরিবার বাড়ি ঘর পানিতে প্লাবিত হয়।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বন্যায় পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার। ছবি: প্রিয়.কম

রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের মন্ডলিয়া পাড়া গ্রামে ৩০০ ফুট, ঘাকপাড়া এলাকায় ২০০ ফুট বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ভাঙন অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ওই দুইটি গ্রামের এক  হাজার পরিবারের বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নয়াবিল ইউনিয়ন দুটি স্থানে হাতিপাগার কালাকুমা ১১০ ফুট নদীর বাধ ভেঙে ৩০০ পরিবারের বাড়ি ঘরসহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

শিমুলতলা এলাকার ভোগাই নদীর ভাঙন অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে বাঘবেড় ইউনিয়নের পালপাড়া, কালিনগর, জাঙ্গালিয়া কান্দা ও শিমুলতলা গ্রামের ৪০০ পরিবারের বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ওই চারটি গ্রামের ৭টি কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে। খালভাঙ্গা এলাকায় ভাঙনের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের চরপাড়া, ছালুয়াতলা ও খড়খরিয়াকান্দার গ্রামের ৬০০ পরিবারে বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, 'কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভাসহ ছয় ইউনিয়নের সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।

নালিতাবাড়ী ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদেরকে বলা হয়ছে। এছাড়া ভাঙন স্থানে পানির ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলার প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।'

প্রিয় সংবাদ/সজিব 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন