সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত।

কোটা আন্দোলনকারীদের ‘হত্যার হুমকি’, অস্বীকার ছাত্রলীগের

হুমকি পাওয়া দুই ছাত্র শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি।

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৮, ২৩:০৫ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত।

(প্রিয়.কম) সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলনকারীদের দুই নেতাকে গুলি করে হত্যার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযোগ থাকা ছাত্রলীগ নেতারা।

তারা বলছেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। যদি আন্দোলনকারী দুই নেতাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার স্বপক্ষে প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখানো হোক। আর তা করতে না পারলে, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে অভিযোগকারীরা বলছেন, তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে শক্ত প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে, সঠিক সময়ে তারা তা হাজির করবেন।

১৬ মে, বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গত ১৫ মে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের ১১৯ নম্বর কক্ষে ঢুকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান লিমন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিসহ ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ নেতা তাদের রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পী তাদের গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে আবারও ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পী রাতে দুই দফায় ফোনে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন নূর।

এ বিষয়ে নূরুল হক নূর প্রিয়.কমকে বলেন, ‘চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লিমন ফোন দিয়ে থ্রেট দিয়ে বলে, আমাদের নাকি হল থেকে পিটিয়ে নামিয়ে দেওয়া হবে। আমরা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি কল করেন। সেই কলে বাপ্পী আমাকে বলেন, ছাত্রদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মারছি। তোদের মতো পোলাপানকে খেয়ে দিতে দুই সেকেন্ডও লাগে না। তোগোরে গুলি কইরা মারি নাই শুধু কিছু সিনিয়রের নিষেধ ছিল। তবে তোরা বাঁচবি না। কিছুদিন পর প্রজ্ঞাপনটা জারি হোক। দেখি তোদের কোন বাপ ঠেকায়।’

তাকে ফোনের ১০ মিনিট পরে পিস্তল হাতে কক্ষে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পী। কক্ষে প্রবেশ করে বাপ্পী নূরকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘তোরা মা-বাবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে নে। তোরা বাঁচবি না। তোদের গুলি করে মারব।’

মহসীন হলের একটি সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে ১১৯ নম্বর কক্ষে ব্যাপক হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান ছাত্ররা। এ সময় কয়েকজন সেখানে ছুটেও যান। তারা গিয়ে দেখতে পান বাপ্পী আন্দোলনকারী নেতা নূর ও রাসেদকে গুলি করে হত্যার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। এক পর্যায় বাপ্পী নূরকে আরো বলেন, হাতটা বাঁধারে নূর, না হলে তোকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে...। ওই সময় নূর তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হাত কেন বাধা, খোলা আছে গুলি করেন।

তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি।

বাপ্পি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘তাদেরকে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছি তার প্রমাণ তারা দেখাক, আর না দেখাতে পারলে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিব।’

তারা (আন্দোলনকারীরা) লিমনের নামে অনেকগুলো ফেসবুক আইডি খুলে চালাচ্ছিল। এ বিষয়ে কথা বলার জন্যই তিনি ও লিমন তাদের রুমে গিয়েছিল। কিন্তু নূর তার সাথে উল্টো তর্ক করে তাকে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারী ও শিবির বলে গালিগালাজ করেছিল বলে দাবি করেন বাপ্পি।

নূর ও রাসেদ আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তারা হত্যার হুমকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করেছে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের এই নেতা।

বাপ্পি বলেন, ‘তারা (নূর ও রাশেদ) সকালে আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিক্ষোভ, আবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করল। এসবের মানে কি? গতকালের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

ঘটনার সময় বাপ্পীর সঙ্গে থাকা আরেক ছাত্রলীগ নেতা মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী প্রিয়.কমকে, ‘লিমন ও বাপ্পী ভাইয়ের সাথে নূর বেয়াদবি করেছিল বলে তারা তার রুমে গিয়েছিল। পরে খবর পেয়ে সেখানে গেলে দেখি যে, তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছে। এক পর্যায় বাপ্পী ভাই সালাউদ্দিন টুকুকে মারধর করেছিল বলে গরম মাথায় বলে ফেলেছিল।’ ঘটনায় সময় নূর ও কয়েকজন সাংবাদিক কক্ষে থাকলেও রাশেদ খান ছিল না বলে জানান তিনি।

আন্দোলনের আরেক নেতা রাশেদ খান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি অবশ্যই সেখানে ছিলাম। গতকাল আমরা একটা মিটিং শেষে রুমে ফিরছিলাম। তার আগে থেকে তারা আমাদের ফলো করছিল। সেখানে শুধু আমিই নই, কয়েকজন সাংবাদিকসহ আরো অনেকে ছিল। ওই সময় আমি রুমের বেডে শুয়ে ছিলাম।’

এ নিয়ে বুধবার সারাদিন উত্তপ্ত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকালে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। হুমকি পাওয়া দুই ছাত্র শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। উল্টো বিষয়টি ঊর্ধ্বতনকে জানানোর পর ডায়েরি নেওয়া হবে। এরপর নূর ও রাশেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অফিসে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রক্টর গোলাম রব্বানী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নূরের সাথে আমার কথা হয়েছে। ভোর চারটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল বিষয়টি আমরা দেখব।’

থানায় সাধারণ ডায়েরি না নেওয়ার বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসানের মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। 

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/রুহুল

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
সরকারকে ‘সোজা রাস্তায়’ আসার আহ্বান ফখরুলের
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ২০ অক্টোবর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
বাদ পড়ছেন আবুল হাসান? একাদশে কে?
বাদ পড়ছেন আবুল হাসান? একাদশে কে?
প্রথম আলো - ৪ মাস, ২ সপ্তাহ আগে
যে কারণে মোস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
যে কারণে মোস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
বাংলা ট্রিবিউন - ৪ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
মোস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
মোস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
মানবজমিন - ৪ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
মুস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
মুস্তাফিজের জায়গায় আবুল হাসান
বণিক বার্তা - ৪ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
ট্রেন্ডিং