(প্রিয়.কম) লন্ডন থেকে দীর্ঘ ৯৪ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ১৮ অক্টোবর বুধবার দুপুর থেকেই তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে জাড়ো হন দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বাসায় ফেরার সময় সন্ধ্যা নেমে এলেও বিমানবন্দর সড়কের সমস্ত সড়ক বাতিগুলো জ্বলেনি। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে, পোহাতে হয়েছে তীব্র যানজট। আর এতসব বিপত্তি ঠেলে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের নিজ বাসায় পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা রাস্তায় কেটেছে খালেদা জিয়ার।      

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় সড়কের বাতি না জ্বলায় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা মোবাইল ফোনের আলো ও মোটর সাইকেলের হেডলাইট জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। সরকারের হস্তক্ষেপেই ওই সড়কে আলো জ্বালানো হয়নি বলে অভিযোগ করে দলটির নেতা-কর্মীরা সেসময় বিক্ষোভ করেন। তবে এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ সড়ক বাতিগুলো জ্বলে ওঠলেও পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তা আবার নিভে যায়।

বাসার পথে খালেদা জিয়া। ছবি: ফোকাস বাংলাবাসার পথে খালেদা জিয়া। ছবি: ফোকাস বাংলা

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাটারা থানা ছাত্রদল সদস্য হাসিবুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের বিপাকে ফেলার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সন্ধ্যার পর থেকে সড়কের বাতি জ্বালানো হয়নি।’

অন্যদিকে গুলশান থানা বিএনপির সদস্য জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কের বাতি না জ্বালানো সরকারের একটি ষড়যন্ত্র।’

এভাবে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর ছেড়ে মূল সড়কে উঠলে প্রচণ্ড যানজটের কবলে পড়তে হয় তাকে। এ ছাড়া নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আগেই বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়েছিল। ফলে আগে থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিমানবন্দর থেকে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তার পাশে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের অভ্যর্থনা-ভালবাসায় সিক্ত দলের চেয়ারপার্সন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিটে তার গুলশানের বাসভবনে পৌঁছান। আর এতে বিমানবন্দরে নামার পর গুলশানের নিজ বাসায় যেতে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায় খালেদা জিয়ার।

এর আগে বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে বাসভবনের উদ্দেশে রওয়ানা দিলেও খালেদা জিয়া যখন বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পৌঁছান, ঘড়িতে তখন বাজে ৭টা ৫৪ মিনিট।

সেসময় তার গুলশান কার্যালয়ের সামনেও নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। তা ছাড়া প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী দুপুরের মধ্যেই বিমানবন্দর এলাকা ও বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন। সেসময় তারা খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নানা রঙয়ের ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড বহন করে ও রাস্তার দুই ধারে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। 

প্রসঙ্গত, চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহামানের বাসায় উঠেন। লন্ডনে থাকা অবস্থায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চেরিটেবল দুর্নীতি মামলাসহ পাঁচ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহসহ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত