সিয়াম আহমেদ/ ছবি: সংগৃহীত

মানুষ মাঝামাঝি কোন বিষয় নিয়ে কথা বলে না : সিয়াম আহমেদ

গত বছর শুটিং শুরু হয় চলচ্চিত্র ‘পোড়ামন ২’-এর। এরপর থেকেই আলোচনায় রয়েছে ছবিটি। বর্তমানে ছবিটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এতে অভিনয় করছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:০১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:১৬


সিয়াম আহমেদ/ ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) গত বছর শুটিং শুরু হয় চলচ্চিত্র ‘পোড়ামন ২’-এর। বছর কয়েক আগের ব্যবসা সফল ছবি ‘পোড়ামন’-এর সিক্যুয়াল এ ছবিটি। এরপর থেকেই আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে ছবিটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এতে অভিনয় করছেন ছোট পর্দা থেকে অভিষেক হওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। ছবিটি প্রযোজনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। এদিকে গত ২০ জানুয়ারি রাতে ছবিটির বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন এ অভিনেতা।

প্রিয়.কম: বেশ কিছুদিন ধরেই তো মেহেরপুরে শুটিং করছেন, কেমন চলছে?

সিয়াম আহমেদ: ভীষণ ঠান্ডা। প্রায় ১০ দিন হলো। আরও দুই দিন পর ঢাকায় ফিরব। গানের শুটিং হচ্ছে এখন। বলিউডের নৃত্য পরিচালক জায়েস প্রধান আমাদের এ ছবির গানের কোরিওগ্রাফি করছেন। বেশ কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সর্বশেষ কোন মুভিতে এমন হয়েছে জানি না, ফিল্মটির প্রত্যেকটি গান এমন না, যে প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার হচ্ছে! গানগুলো হচ্ছে গল্প বলার জন্য। কোন গানই এমন নয় যে পারফর্ম করতে হবে না!

প্রিয়.কম: মুক্তির আগেই আলোচিত ‘পোড়ামন ২’। কদিন আগে এই ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ হয়েছিল। ব্যতিক্রমী ওই পোস্টার প্রশংসিত হয়েছিল, এরপর এই ছবির দ্বিতীয় পোস্টারও প্রকাশ করা হয়েছে...

সিয়াম আহমেদ: আমার জন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা-মা আমাকে একটি বিষয় শিখিয়েছেন যে, মানুষ তাকে নিয়েই কথা বলছে কিংবা আলোচনা-সমালোচনা করবে যে ব্যক্তি খুব ভালো কাজ করছে না হয় খুব খারাপ কিছু করছে। মানুষ মাঝামাঝি কোন বিষয় নিয়ে কথা বলে না। এখন পর্যন্ত আমার বিশ্বাস, খারাপ কিছু করিনি। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। তার জন্যই মানুষের এতো কথা। সব থেকে যে বিষয়টিতে আমি শকড হলাম, পোস্টার নকলের অভিযোগ। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।

কারণ যে পোস্টারগুলোর সাথে তুলনা করা হয়েছে, সেগুলো দেখলেই বোঝা যায়। নকল কী না। আর সিনেমাটির পোস্টার ডিজাইনের জন্য একজনকে হায়ারও করা হয়েছে। এসব করা তো একটাই কারণে যারা ফিল্ম থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, তাদেরকে হলমুখি করতে চাই। আর তাদের যদি আবার হলে আনতে হয়, তাদেরকে তো গত তিন দশকে যে ধরনের ফিল্ম হয়েছে, সে ধরনের ফিল্ম দিয়ে তো আনতে পারব না। তাদের যে কাজ দিয়ে আনতে পারব, যেটা আমাদের ভালো লাগবে। আমাদের জায়গা থেকে শুরু থেকেই সে চেষ্টাটা অব্যাহত রয়েছে। বাকিটা তো দর্শক বলতে পারবেন। 

প্রিয়.কম: সিয়ামের কাছে ‘পোড়ামন ২’ এর চরিত্রটি কতটা চ্যালিঞ্জং ছিল?

সিয়াম আহমেদ: সিনেমার শুটিং তো শেষের পথে। মনে হচ্ছে কীভাবে যেনো হয়ে গেল! আমি যখন পারফর্ম করি, কখনই নিজের উপর সন্তুষ্ট থাকি না। আমি আমার প্রত্যেকটা শর্ট শেষ করার পর পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফারের দিকে তাকাই। তাদের চোখের এক্সপ্রেশন আমি বোঝার চেষ্টা করি। যদি বুঝি ভালো হয়েছে ওকে, তাহলে ঠিক আছে। আর না হয় সে শর্টটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমি শর্ট দিই।

প্রিয়.কম: এই চরিত্রের অফার পেয়ে ভেবেছিলেন, আপনিই কেন?

সিয়াম আহমেদ: আমি কেনো, বিষয়টা এমন ছিল না, আমার মনে তখন প্রশ্ন ছিল আমি কী এখনই আসব নাকি আরও কিছুদিন সময় নেবো? যদিও আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। আমার কাছের মানুষ যারা আমার শুভাকাঙ্খি তারা সব সময় আমাকে যেটা ভালো সেটির পরামর্শ দিয়েছেন। আমি মনে করি, যে কোন মানুষ যখন কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তখন সে সেটি বুঝতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি যদি সাহস করে এ সিদ্বান্তটা না নিই, তাহলে আমার জেনারেশনের অনেকেই হয়তো আরও লেট করবে। একজনকে তো সাহস করে আগাতে হবে। দেখা যাক কী হয়।

প্রিয়.কম: কিন্তু আপনার কী মনে হয়, আপনি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন সে ধরনের মানুষ কী সত্যিই বাস্তবে রয়েছে?

সিয়াম আহমেদ: আমি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি, সে ছেলেটির কিছু কোয়ালিটি আছে। এই ছেলেটা পৃথিবীর বাইরের কেউ না। অনেক স্বপ্নবাজ একটা ছেলে। এই ছেলেটা একজনের অনেক বড় ফ্যান। সে নিজেকে মনে করে সে তার গুরুর মতোই হবে। কিংবা সে ভাবে আমিই আমার গুরুর এক নম্বর শিষ্য। আমি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি এ ধরনের চরিত্র বাস্তবে রয়েছে। এখনকার অনেক ছেলেদের স্বপ্নই এমন হয়।

‘পোড়ামন ২’-এর পোস্টার/ ছবি: সংগৃহীত। 

প্রিয়.কম: ক্যারিয়ারের অভিষেকের ছবিটাই কমার্শিয়াল ছবি। কিন্তু আপনার মধ্যে তো ক্যারেকটারাইজ কাজ করার নমুনা তো বহু আগে থেকেই আছে...

সিয়াম আহমেদ: আমাদের দেশে একটা বাজে কনসেপ্ট আছে। সেজন্য আসলে সমস্যা হয়। আমাদের এখানে একজন অভিনেতা এবং হিরোকে আলাদা করে ফেলি। কিন্তু আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর দিকে তাকাই, সেখানে কিন্তু এমন নেই! একজন ভালো অভিনেতা কিন্তু হিরো। আবার একজন হিরো কিন্তু একজন ভালো অভিনেতাও। যদি তারা পারেন, আমি কেনো পারব না। বরং আমরা আরও বেটার পারব। কারণ আমার মনে হয় আমরা যে সব প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে শুটিং করি, পৃথিবীর আর কোনো দেশে এতো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে শুটিং হয় না।

কমার্শিয়াল সিনেমা দিয়ে শুরু করার কারণ কিন্তু অন্য জায়গায়। আমি ভেবেছিলাম কোন আর্ট কিংবা ক্যারেকটার প্লে করা যায় এমন টাইপের সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করব। কিন্তু ভেবে দেখলাম, আমি ওই ধরনের ছবি করে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারব না। মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য ফিল্ম কিন্তু বড় একটা মাধ্যম। আমি ওই ধরনের কাজ করে প্রশংসিত হতে পারতাম কিন্তু সর্ব-সাধারণের কাছে যেতে পারতাম না। আমার মনে হয় এই ছবিটা কিংবা চরিত্রটা আমাকে মানুষের কাছে নিয়ে যাবে। যতটুকু আন্দাজ করতে পারছি।   

প্রিয়.কম: আপনার কী মনে হয়েছে, বাংলা ছবির গতানুগতিক ধারা থেকে এ ছবিটি আলাদা হবে?

সিয়াম আহমেদ: দর্শকই এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছবিটির যেসব বিষয়গুলো উন্মোচিত হয়েছে, তারা বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি ছবিটি নিয়ে তারা বেশ আলোচনা করছে। আর একটা ভাল প্রজেক্ট হলে তখন কিন্তু সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে শুরু করে। আমি নিজের কাজ নিয়ে খুব বেশি একটা আত্মবিশ্বাসী থাকি না। আমি কিন্তু মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকি। সকবার ফিডব্যাক যেহেতু পজেটিভ পাচ্ছি। যার কারণে কাজটি নিয়ে আমি আরও অনেক বেশি আশাবাদী।

প্রিয়.কম: সিনেমায় অভিনয় তো নিশ্চয়ই অনেক বড় ব্যাপার। সে চাপ কি অভিনয় করতে গিয়ে অনুভব করছেন?

সিয়াম আহমেদ: এখন তো সিনেমাটির কাজ শেষ প্রায়। আমি যদি প্রেসার নিই আমি কি সে জায়গাগুলো চেঞ্জ করতে পারব? যা হওয়ার হয়েছে। যা দিয়ে দেওয়ার দিয়ে দিয়েছি। এখন যেটা করতে পারব। সঠিকভাবে প্রমোশন করতে পারব। কারণ আমরা জানি, আমরা একটি ভাল কাজ করেছি। খারাপ লাগবে তখন যখন একটি ভাল কাজ ভাল প্রমোশন না পায়। কিংবা মানুষের কাছে না পৌঁছায়। আমার বিশ্বাসের জায়গা হচ্ছে আমার পারফরম্যান্স। আর সেটি যদি ঠিক থাকে, আমার মনে হয় আটকানোর খুব বেশি একটা জায়গা নেই। 

প্রিয়.কম: আজকের দিনে সিনেমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

সিয়াম আহমেদ: আমাদের এখানে বর্তমানে সিনেমা প্রযোজনা করবে এমন চার থেকে পাঁচটি বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দরকার। যারা টাকা-পয়সা খরচ করে ভালো সিনেমা বানাবে। আর যেটা দরকার সিনেমাটির স্মার্ট প্রেজেন্টেশন ও শিক্ষিত ডিরেক্টর। শিল্পীর অভাব নেই। কিন্তু স্মার্ট ডিরেক্টর দরকার। যে কাজ আদায় করে নিতে পারবে। তাহলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি হয়তো আগামী দশ বছরের মধ্যেই পরিবর্তন হবে।

প্রিয়.কম: শুটিংয়ের এমন কোন ঘটনা আছে যেটা আপনি আলাদা করে বলতে চান?

সিয়াম আহমেদ: আমাদের ফিল্মের যেদিন এন্ট্রি শুট্য হবে তার ঠিক আগের দিন, আমাদের ফিল্মের যে সিনেমাটোগ্রাফার সাইফুল শাহিন ভাইয়ের বাবা মারা যান। তিনি তখন সেটের লাইট করতে ছিলেন। সে সময়ই তিনি এ খবরটি শুনলেন। তারপরও তিনি সেটের লাইট করে যাচ্ছেন। এরপর তাকে জোর করে আমরা একদিনের জন্য ঢাকা পাঠাই। আমাদের ফিল্মের কারণে তিনি তার বাবার পাশে শেষ সময়ে থাকতে পারেননি। কারণ তিনি আরও আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। যখন তাকে বিদায় দিতে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললাম, সিয়াম তুমি টেনশন করো না, আমি গিয়ে মধ্যিখানে একদিন থেকে আবার ফিরে আসব। তোমার এন্ট্রি সিন আমার হাত দিয়েই হবে। আমি তখন তার কথা শুনে থ হয়ে গেলাম। এবং তিনি যে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সে কথা মতোই এসে হাজির হলেন। আমি এরকম প্রফেশনাল মানুষ খুব বেশি দেখি নাই।

প্রিয়.কম: আর সহ-শিল্পী পূজার কথা...

সিয়াম আহমেদ: আমাদের এ প্রজন্মের যারা অভিনেত্রী হবেন, পূজা তাদের মধ্যে উপরের দিকেই থাকবে। এটা ওর পারফমেন্স দেখলেই সবাই বুঝতে পারবে। আমার ফিল্মটির এডিট হচ্ছে কলকাতায়, সেখান থেকে খবর পেলাম, আমাদের কেমেস্ট্রিটা নাকি দারুণ হয়েছে। অনেক ভালো লেগেছে।

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘কমলা রকেট’
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ নভেম্বর ২০১৮
বিয়ের পর সদ্য বিবাহিত দীপিকা-রণবীরের ঝলক
তাশফিন ত্রপা ২০ নভেম্বর ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী নিলেন আমজাদের চিকিৎসার দায়িত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ নভেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
সালমান শাহ প্রসঙ্গে সিয়াম আহমেদ (ভিডিও)
সালমান শাহ প্রসঙ্গে সিয়াম আহমেদ (ভিডিও)
বাংলা ট্রিবিউন - ২ মাস, ২ সপ্তাহ আগে
সুপার হিরো শাকিবের প্রশংসায় সিয়াম আহমেদ
সুপার হিরো শাকিবের প্রশংসায় সিয়াম আহমেদ
জাগো নিউজ ২৪ - ৫ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
ট্রেন্ডিং