(প্রিয়.কম) “নিজের সকল চিন্তা ভাবনা, মতামত, ইচ্ছা, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষা জীবনসঙ্গীর কাছে পুরোপুরিভাবে প্রকাশ করার মাধ্যমে সম্পর্কের ভিত গভীর এবং মজবুত হয়। এতে করে একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস সুদৃঢ়ভাবে গড়ে উঠতে পারে। একই সাথে একে অন্যের সাথে সকল বিষয় খোলাখুলিভাবে শেয়ার করা, বিশ্বস্ততার একটি অন্যতম লক্ষণ,” খুব চমৎকার এবং একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ এই কথাগুলো বলেছেন সোশ্যাল রিসার্চার এবং ‘দ্যা সারপ্রাইজিং সিক্রেটস অফ হাইলি হ্যাপি ম্যারেজ: দ্যা লিটল থিংস দ্যাট মেকস অ্যা বিগ ডিফারেন্সবইয়ের লেখক শাউন্টি ফেল্ডহান

একে অন্যের সাথে নিজের অনুভূতিগুলো নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারাটাও কিন্তু সাহসিকতার পরিচয় দেয়। নিজের মনের লুকায়িত অনুভূতি জানিয়ে দেওয়ার ফলে সেটা হাসি ঠাট্টা করার সম্ভাবনা থেকে যায়। সেই ভয়কে মাথায় রেখেও যখন একজন তার জীবনসঙ্গীর সাথে নিজের মনের কথাগুলো বলেন, তখন বুঝতে হবে সম্পর্কের মাঝে তিনি কোন লুকোছাপা একেবারেই রাখতে চান না! অনেকেই হয়ত একদম প্রথম থেকে সবকিছু নিয়ে কথা বলতে চাইবেন না। কারোর জন্য কয়েক দিন অথবা কয়েক সপ্তাহও প্রয়োজন হতে পারে। তবে সকল কিছুর শেষে, জীবনসঙ্গীর মাঝে কিছু সাধারণ আচরণ এবং বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে যার মাধ্যমে খু সহজেই বোঝা যায় তিনি বিশ্বস্ত কি না!

ছোটখাটো ভুলগুলো স্বীকার করে নেবেন

অনেকের মাঝেই একটি বাজে অভ্যাস দেখা যায়। নিজের ভুলগুলো একেবারেই মেনে নিতে চান না। যেকোন ভাবেই হোক, নিজের ভুলগুলোকে ধামচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অথবা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চান। তবে জীবনসঙ্গী যদি নিজের ছোটখাটো ভুলগুলোকে স্বীকার করে নিয়ে শুধরে নিতে চান তবে বুঝতে হবে তার মাঝে রয়েছে সততা। “যদি আপনি ছোটখাটো ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে না পারেন, তবে আপনি বড় কোন ব্যাপারেও দায়িত্ব নিতে পারবেন না।“ বলেছেন ‘টাম্পা লাইফ চেঞ্জ’ এর প্রতিষ্ঠাতা এনিসা শেনবার্জার। তিনি আরো যোগ করেন, “যখন কেউ ছোটখাটো কোন ভুলে লুকানোর চেষ্টা করে এবং ভুল ধরিয়ে দিলে আত্মরক্ষামূলক আচরণ প্রকাশ করে, তখন বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি সম্পর্ক সুন্দরভাবে গড়ে ওঠার মাঝে থাকতে চান না।“ অন্যদিকে যে ব্যক্তি নিজের ভুলগুলোকে মেনে নিয়ে ক্ষমা চান তিনি একটা বিশ্বাসপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতি আগ্রহী।

আপনাকে ছুঁয়ে দেবার জন্য বাহানা খুঁজবেন

বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝে দৈহিক মিলন বা সেক্স এর দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পায় না। বাইরে বের হলে একে অন্যের হাত ধরে রাখা, আলতো করে গাল ছুঁয়ে দেওয়া অথবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে কপালে ছোট করে চুম্বনের রেখা এঁকে দেওয়া- সম্পর্কের মাঝে গভীরতা প্রকাশ করে। “একটি যুগল কীভাবে এঁকে অন্যের সাথে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ সেটাই প্রকাশ করে তাদের মজাহে সম্পর্ক কতটা ভালো এবং একে অন্যকে তারা কতটা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন,” বলেছেন শেনবার্জার। তার বক্তব্যের সাথে তিনি আরো যোগ করেন, "রান্নাঘরে কাজের মাঝে আপনার জীবনসঙ্গী পেছন থেকে আপনাকে জড়িয়ে ধরলে সেটা কোন যৌনতাময় আচরণ নয়। বরং এটা একটা সম্পর্কের মাঝে থাকা যেই ছোটখাটো ভালো লাগার ব্যাপার যেটা সকলেই পেতে চায়।" 

টাকাপয়সার ব্যাপারে কোন লুকোছাপা করবেন না

বিয়ের পর দুইজন মানুষের মাঝে লুকোছাপার অভ্যাস দেখা দিলে বিশেষ করে টাকাপয়সার হিসেব নিয়ে, তবে সেটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। শাউন্টি ফেল্ডহান বলে, “বিশ্বস্ততার অন্যতক একটি লক্ষণ হলো, আপনার জীবনসঙ্গী সকল ধরণের ঝুঁকিকে পেছনে ফেলে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা আপনার সাথে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করবে।“ আপনার কাছ থেকে জীবনসঙ্গী অর্থনৈতিক ব্যাপার সম্পর্কিত আলোচনা এড়িয়ে গেলে অথবা টাকাপয়সা নিয়ে মিথ্যা কথা বললে কিংবা লুকোছাপা করলে সেটা সম্পর্কের মাঝে চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেবার সম্ভবনা প্রকাশ করে!

সম্পর্কের মাঝে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য চেষ্টা করে থাকেন

জীবনসঙ্গী কিংবা জীবনসঙ্গিনী, বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝে যে কেউ একে অন্যের ব্যাপারে কোন না কোন সময়ে অনিরাপত্তা এবং অনিশ্চয়তায় ভুগে থাকেন। সেটা হতে পারে চাকরীর জন্যে, চাকরী ক্ষেত্রে সহকর্মীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য অথবা অন্য যেকোন কারণ! এক্ষেত্রে দেখতে হবে, আপনার সঙ্গী মানুষটি আপনার এই মানসিক অস্থিরতা বুঝতে পেরে আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন কি না! জীবনসঙ্গী যদি বিশ্বস্ত এবং বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে থাকেন তবে তিনি নিজ থেকে কথা বলতে চাইবেন। সহকর্মীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবেন। অথবা, অন্য যেকোন সমস্যার ক্ষেত্রে সেই সমস্যাটি সমাধান করার উপায় বের করবেন।

হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও মুখোমুখি কথা বলার জন্য সময় বের করে নেন

জীবনে নানান ধরণের কাজের ব্যস্ততা এবং চাপ তো থাকবেই। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কাজ, কর্মক্ষেত্রের কাজ, পারিবারিক কাজ। এছাড়াও আরও বাড়তি নানা ধরণের কাজ তো থাকেই। এ সকল কিছুর বাইরে এসে আপনার সঙ্গী মানুষটি যদি আপনার সাথে মুখোমুখি বসে কথা বলতে, গল্প করতে আগ্রহী হন, তবে জেনে রাখুন সেটা আপনার প্রতি তার সম্পর্কের টান প্রকাশ করছে! একসাথে বসে হালকা ধাঁচের কথা বলে, কিংবা কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে একসাথে আলোচনা করার জন্যেও মুখোমুখি কথা বলার মাঝে থাকে অন্যরকম এক আবেদন। শেনবার্জার এ সম্পর্কে বলেন, "একজন ব্যক্তির মুখোমুখি বসে অন্য আরেকজন ব্যক্তি কথা বলা, একে অন্যের প্রতি বিশ্বস্ততার লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে।"

বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপ্তি অনেক বেশী। ছোটখাটো কিছু সম্পর্কের লক্ষণ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে তাকে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। ঠিক একইভাবে জীবনসঙ্গীর বিশ্বস্ততা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। তাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারার জন্য গবেষকরা তাদের গবেষণা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু ব্যাপার তুলে আনেন। তবে, আপনার জীবনসঙ্গীর সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানবেন এবং বুঝতে পারবেন আপনি নিজেই।

সূত্র: Reader’s Digest 

প্রিয় লাইফ/ রুমানা বৈশাখী