(প্রিয়.কম) পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম ও তার বোন হাফিজা খাতুন। দুই ভাই বোনের কপালে জোটেনি সুখ। সাইদুল ইসলামের পঙ্গুত্ব দেখে স্ত্রী চলে গেছেন বাবার বাড়ি। অপরদিকে হাফিজাকে ছেড়ে চলে গেছেন তার স্বামী। তবে ভাইকে বাঁচানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন বোন হাফিজা।

প্রায় ২০ বছর আগে জমি চাষ করার সময় লাঙলের ফলার আঘাতে সাইদুলের ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে যায়। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সেখানে পচন ধরলে ডান পা কেটে ফেলতে হয়। পরবর্তীতে বা পায়েও পচন ধরলে সেই পা কেটে ফেলা হয়। এক সময় যে মানুষ সারাদিন ঘাম ঝড়িয়ে জমিতে ফসল ফলাতো সেই মানুষ হয়ে পড়েন পঙ্গু! এখন হারিয়েছেন বাকশক্তি!

ভাইকে বাঁচাতে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন বোন হাফিজা। হুইল চেয়ারে বসা পঙ্গু ভাইকে নিয়ে সকাল হলেই হাফিজা বেড়িয়ে পড়েন ভিক্ষা করতে। ভিক্ষার টাকা দিয়ে চাউল কেনার টাকা হলেও ওষুধের টাকা জোগাড় হয় না! দিনে আড়াইশ’ টাকার ওষুধ লাগে সাইদুলের। টাকার অভাবে কোন দিন ওষুধ খাওয়া হয় আবার কখনওবা হয় না।

তবুও পঙ্গু ভাইকে বাঁচাতে বোন হাফিজা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জীবন যুদ্ধ হারতে রাজি নন তিনি। এবার সাইদুলের দুই হাতেও পচন ধরেছে। দুর্গন্ধে কেউ কাছে যেতে পারে না। তবে বোন হাফিজা ভাই অন্তে প্রাণ। ডাক্তার বলেছেন কাটতে হবে সাইদুলের দুই হাত। পচন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তাকে বাঁচানো যাবে না।

কিন্তু কি করবেন বোন, যতটুকু সম্পদ ছিলো সব বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। সম্পদ বলতে বাবার রেখে যাওয়া এক টুকরো জায়গার ছনের ঘর। সেখানে মা ও ভাইয়ের দুই ছেলেকে (শিপন ও স্বপন) নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকেন তারা।

হাফিজা খাতুন বলেন, ‘আমাদের ভাই বোন দু’জনের কপাল সুখ জুটলো না! ভাইকে দেখে কষ্ট হয়। স্ত্রী ঘৃণা করে চলে গেলেও আমি তো বোন, আমি কি করে তাকে ফেলে চলে যাই। সারাদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে হেঁটে ভিক্ষা করে যা পাই তাই দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। কেমন করে বাঁচাবো ভাই কে?’

তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর ভাই আমাকে মানুষ করেছে। কিন্তু সে আজ পুঙ্গু! অপারেশন করার মতো টাকার আমাদের নেই। সরকার বা সমাজের কোনো বিত্তশালী ব্যক্তি সহযোগিতা করলে আমার ভাইকে বাঁচাতে পারতাম। সাহায্য পাঠাতে হাফিজা খাতুন বিকাশ নম্বর- ০১৯২৯৯২৯৬৭২।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আশরাফ