প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত

গুঁড়ো মাছ এবং গৃহিণী সমাচার

পুরুষ মাত্রই জানেন গুঁড়ো মাছ দেখলে গৃহিণীগণ কী পরিমাণ আনন্দিত হন

মহিউদ্দীন আহ্‌মেদ
Writer
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৩৩ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৬


প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত

সবজির দাম দিচ্ছিলাম, কে যেন হন্তদন্ত ভঙ্গিতে পেছন দিক দিয়ে এসে বলল, ছার আপনার রান রাইখা আসছেন!  

কী!—আমি রীতিমতো আঁতকে উঠলাম। রান রেখে তবে আমি হেঁটে এলাম কীভাবে?

কোয়ার্টার সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে যেন সম্বিত ফিরে পেলাম। না, আই অ্যাম ওকে। ঘটনা হয়তো অন্য কিছু।

পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি— আব্দুর রশিদ দাঁড়িয়ে। অপরাধীর মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বললাম, ব্যাপার কী?

একটা রান রাইখা আসছেন ছার।

আবার বলে রান রাইখা আসছি! কিসের রান? রান রেখে আসছি মানে কী?

না মানে আমি মনের ভুলে আপনার একটা রান রাইখা দিছি আর কী। কাইটা আট পিস কইরা দেওয়ার কথা আছিল না? সেইখান থেকে এক পিস রান নিচে পইড়া গেছিল।

এইবার আসল ঘটনার জট খুলল।

দুইটা মুরগির অর্ডার দিয়ে আমি মাছ বাজারে চলে এসেছিলাম। আসার সময় আব্দুর রশিদকে বলে এসেছিলাম মুরগি দুইটা বানিয়ে যেন আট পিস করে দেয়। ইদানীং মুরগি কিনে নিয়েছি দেখলে বুয়া প্রচণ্ড রকম গজগজ করে। প্লেট-বাটি ধোয়ার সময় ঝ্যাংঝ্যাং শব্দ হয়। পানির কল ছাড়লে মনে হয় বানের পানি ধেয়ে আসছে। গিন্নি তখন রাগের চোট গরম তেলের মতো ফুটতে থাকেন। যদিও সাহস করে বুয়াকে কিছু বলতে পারেন না। কারণ কিছু বললেই বিপদে পড়তে হবে। মানে বুয়া চলে যাবে। শত ডাকলেও আর আসবে না।

সেসব কথা মনে করে আব্দুর রশিদকে দিয়ে এই বাড়তি কষ্টটা করিয়ে নেওয়া। তো আব্দুর রশিদ দুটো মুরগি জবাই করে আট পিস করেছিল ঠিকই কিন্তু ব্যাগে ভরার সময় টের পায়নি একটা রান নিচে পড়ে গিয়েছে। আমি মুরগির ব্যাগ নিয়ে চলে আসার পর সে পড়ে যাওয়া রানটি দেখতে পায়। পেয়ে দৌড় দেয় আমার খোঁজে।

আব্দুর রশিদ প্রথমে গিয়েছে চায়ের দোকানে। সে জানে, বাজার করার ফাঁকে আমি ২/৩ কাপ চা-টা পান করি। আব্দুর রশিদও যেহেতু চা-টা পান করে এবং কোনো কোনো দিন চায়ের দোকানে আমার সাথে তার দেখা হয়ে যায়, সেহেতু সে ভেবে নিয়েছিল চায়ের দোকানে আমাকে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেখানে আমি নাই। কারণ শেষ চায়ের কাপে এবং টায়ে আমি একটু আগেই চুমুকটা দিয়ে এসেছি।

চায়ের দোকানে না পেলে কলার দোকানে পাওয়ার থাকা সম্ভাবনা থাকে। আমি বাজারে গেলে এক ডজন কলা কিনি। আব্দুর রশিদ এটাও জানে। ওকে একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, আমার দুই বছরের শিশুপুত্র নিজ হাতে চম্পা কলার খোসা ছিলে যেভাবে কামড় দেয় তা দেখতে ভারী সুন্দর লাগে। এ কারণে কলা কিনতে ভুল করি না। ফলে আব্দুর রশিদ সোজা চলে গিয়েছে কলার দোকানে। কিন্তু আমাকে পায়নি। তারপর গিয়েছে মাছ বাজারে।

হ্যাঁ, আমার খুব পছন্দের জায়গা হলো মাছ বাজার। এখানে হাঁটাহাঁটি করতেও ভালো লাগে। বাজারের প্রতিটা সারিতে সাজানো ডালা ভর্তি মাছ দেখতে দেখতে সময় যে কীভাবে কেটে যায় টেরও পাই না। অনেকক্ষণ ধরে নানা পদের মাছ দেখার পর এবং টুকটাক দামাদামি করার পর আমি মাছ কিনতে শুরু করি। দেশি মাছ বেশি কিনি। ট্যাংরা, পুঁটি, কই, শিং, মলা, খইলশা, ভেদা, বাইম, বইল্যা—এগুলো। যদি এগুলো পাই তবে এক কেজি, আধা কেজি এভাবে কিনি।

ব্যাগভর্তি মাছ কিনে খুশিতে ডিগডিগে মনে বাসায় ফিরি। ফিরি খুব ব্যস্তভঙ্গিতে। ফিরেই মনে পড়ে বাসায় থাকা যাবে না। ফলে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে চলে যাই। এমন একটা ভাব করি যেন বাইরে রিকশাওয়ালাকে দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছি। সদাইগুলো রেখে গিয়েই ভাড়া মেটাব। কিন্তু সেই যে কচি-সন্ধ্যায় কেটে পড়ি, ফিরি রাত দশটার পরে। ততক্ষণ ক্লাবে তাস কিংবা ক্যারম খেলি। কারণ বাঙালি পুরুষ মাত্রই জানেন এবং বোঝেন, গুঁড়ো মাছ দেখলে গৃহিণীগণ কী পরিমাণ আনন্দিত হন! ফলে গিন্নির আনন্দযজ্ঞের কথা স্মরণ করেই কেটে পড়ি। জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির লাভা যেমন জমাট বেঁধে মালভূমি হয় তেমনি রাত দশটার পর গিন্নির টগবগে রাগ ঝিমিয়ে আসে। তবে ঝাঁঝ কিছুটা থাকেই। ওটুকু সইবার শক্তি সব পুরুষেরই আছে!

যা হোক মাছ বাজারে আমাকে না পেয়ে আব্দুর রশিদ অবশেষে এসেছে এই সবজির দোকানে।

ছার মুরগির ব্যাগটা কই?

ওটা তো মাছ বাজারে রয়েছে। আলতু মিঞার দোকানে।

চলেন নিয়া আসি।

আমি আর আব্দুর রশিদ মাছ বাজারে গেলাম।

আলতু মিঞা মুরগির ব্যাগটি মাছের সাথে বরফের চাঁইয়ের পাশে ঢুকিয়ে রেখেছিল। আব্দুর রশিদ আলতু মিঞার কাছ থেকে মুরগির ব্যাগটি নিয়ে সোজা চলে গেল। আমিও তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম।

আমার পড়ে যাওয়া রানটি ব্যাগে ভরে দিতে দিতে আব্দুর রশিদ বলল, এই ধরনের মিসটেক সাধারণত হয় না ছার।  ডোন্ট মাইন্ড। কিছু মনে কইরেন না।  

না না, ঠিক আছে।

আব্দুর রশিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে এলাম।  

বড় বড় দুই ব্যাগ বাজার নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে বাসে উঠলাম। ভাগ্য কী কারণে প্রসন্ন জানি না। দেখলাম বাস মোটামুটি ফাঁকা। আমি প্রায়ই নবীনগর বাজারে আসি। বাস কখনো এ রকম ফাঁকা পাই না।

মাঝের একটা সিটে বসলাম। বসতে না বসতেই এক হকারের কণ্ঠধ্বনি ভেসে এলো। সে দরজা বরাবর দাঁড়িয়ে দরাজ কণ্ঠে ও হাস্যবদনে যাত্রীদের উদ্দেশে লেকচার দিচ্ছে।

আপনার রানের চিপায় খুজলি। ক্ষণে ক্ষণে চুলকায়। একনাগাড়ে পাঁচ মিনিট না চুলকালে চুলকানির জ্বালা মেটে না। আপনি জগৎ-সংসারের কথা ভুলে চুলকান। চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ছুলে যায়। রক্ত বের হয়। শেষে থামেন। কিন্তু আর চুলকাতে হবে না। আমি একটা বিশেষ দাওয়াই নিয়ে এসেছি। একবার লাগাবেন, ১২ বছরের মধ্যে রানের চিপায় আর হাত দিতে হবে না। যেকোনো ডিসপেনসারিতে দাম নিবে ৫০ টাকা। আমাকে ৫০ টাকা দিতে হবে না। কোম্পানির প্রচারের জন্য আমি দাম নিচ্ছি ফিফটি পারসেন্ট ডিসকাউেন্টে মাত্র ২৫ টাকা। ২৫ টাকা। ২৫ টাকা। যিনি নিবেন জাগায় বসে হাত উঁচা করবেন। এক ফাইল ওষুধ আপনার সিটে পৌঁছে যাবে।

হকারটি যাত্রীদেরকে তার ওষুধ গছানোর চেষ্টা করতে লাগল। কাউকে কাউকে গছালোও।

আমি যেহেতু অগার মতো ভঙ্গি করে পুরোটা সময় তার দিকে তাকিয়ে তার লেকচার শুনছিলাম, ফলে সে আমাকে ওষুধ সাধার সাহস পেল না কিংবা মনে করল, আমি একজন জাঁদরেল ত্যান্দর প্রকৃতির লোক; আমার কাছে ওষুধ বিক্রি করতে চাইলে তার বারোটা বেজে যাবে।     

আমার গন্তব্য সিঅ্যান্ডবি স্ট্যান্ড। নবীনগর টু সিঅ্যান্ডবি পাঁচ টাকার বাস ভাড়া পথ।

বাস থেকে নেমে মনে হলো এক কাপ চা খেয়ে নিই। বাসায় গিয়ে তো আর চা পানের সৌভাগ্য হবে না। কে দিবে? গিন্নি থাকবে ব্যস্ত। বুয়া থাকবে ব্যস্ত। ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত ইন্টারনেটে। নিজেই বানিয়ে নিতে হবে। তার চেয়ে এখানে গরুর দুধের চা আছে।  

চায়ের দোকানে বসলাম।

বুঝলাম আমি আসার আগে থেকেই এখানে কয়েকজন তুখোর সমালোচক আড্ডা দিচ্ছিলেন। তারা নেপালে বিমান দুর্ঘটনা বিষয়ে কথা বলছিলেন।  

রানওয়ে খারাপ ছিল ভাই। বুঝেন তো বিমান নামার জন্য রানওয়ে ইজ ইমপর্টেন। রানওয়ে খারাপ থাকলে বিমানটা নামবে কীভাবে বলেন?

আরে না। কে বলল রানওয়ে খারাপ ছিল? ফালতু কথা। রানওয়ে ঠিকই ছিল। আপনি ভুল জানেন।

চায়ে চুমুক দিব এমন সময় দেখি আমার মুখোমুখি বসা রানের চিপার হকার। আমার দিকে পিটপিট করে তাকাচ্ছে। একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি, সত্যি সত্যি তার ওষুধে কাজ হয় কি না। পরে ভাবলাম, না থাক, আমার যেহেতু রানের চিপায় খুজলি নাই সেহেতু অযথা তাকে ঘাঁটানোর কোনো মানে হয় না। কেননা একবার জিজ্ঞেস করে ফেললে সে ভাববে, আমার রানের চিপায় খুজলি আছে এবং আমাকে এক ফাইল ওষুধ গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সমালোচকদের বিমান দুর্ঘটনাবিষয়ক পর্যালোচনা এতই চমৎকার ছিল যে, রানের চিপার খুজলির লোকটাকে একরকম খারিজ করে তাদের দিকে নজর দিতে বাধ্য হলাম। তাদের আলোচনার মূল বিষয় হলো কথামতো কাজ করা বা না করা। অর্থাৎ কথামতো কাজ না করলে কী পরিমাণ খেসারত দিতে হয় তার পর্যালোচনা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউএস-বাংলার বিমানটিকে রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করতে বলেছিল। কিন্তু বিমানটি রানওয়ের উত্তর দিক থেকে অবতরণ করে। এই যে কর্তৃপক্ষের কথা না শুনে পাইলট সাহেব মাতব্বরি করলেন এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ রকম একটি জোরালো স্টেটমেন্ট দিয়ে এক সমালোচক চায়ে চুমুক দিলেন। তার কথায় অন্যদের মধ্যে কিছুটা নীরবতা নেমে এলো। কারণ এ রকম অকাট্য যুক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই কেউ কথা বলতে সাহস পায় না, বিশেষত যদি সে বুঝতে পারে যে তার জানার ঘাটতি রয়েছে। তবে সবাই একরকম না। কেউ কেউ আছেন, যারা জানেন না বলে চুপ থাকেন। আবার কেউ কেউ আছেন জানেন না বলে না-জানা বিষয়ের ওপর বেশি বেশি বকবক করেন, যাতে তার না-জানা বিষয়টি অনেক কথার ভিড়ে চাপা পড়ে যায়। সে রকমই এক সমালোচক বললেন, কার কাছে শুনলেন ভাই? আপনি কি বিমানে ছিলেন নাকি নেপাল বিমানবন্দরে ছিলেন?

দেখেন ভাই, ফালতু প্রশ্ন করবেন না। শোনেন, বিশ্বটা এখন হাতেরমুঠায়। কোথাও যাওয়া লাগে না। যেকোনো খবর ফেসবুকে আইসা ভাসতে থাকে। আমি খবরটা পড়েছি বিবিসি বাংলায়। চাইলে আপনিও পড়ে নিতে পারেন।

তৃতীয় একজন বলল, আমিও মনে করি পাইলটেরই দোষ। তাকে নামতে বলল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়া অথচ সে নামল উত্তর দিক দিয়া। কাজটা সে ঠিক করে নাই। এ কারণেই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।

না ভাই পাইলটের দোষ আমি দিব না। কারণ পাইলট কি কখনো আপন যাত্রীর ক্ষতি চায়? চতুর্থ সমালোচকের এমন কথায় দ্বিতীয় না তৃতীয় চটে উঠল।

আরে রাখেন। এইসব কথার কোনো মূল্য নাই। আমাগো দেশে প্রতিদিন রোড অ্যাকসিডেন্ট হইতেছে। শত শত মানুষ মরতেছে। এখন যদি আপনি বলেন, কোনো ড্রাইভার চায় না মানুষ মরুক তাতে কী হবে? শোনেন, আপনি যেভাবে ভাবতেছেন ঘটনা এত সরল না। এইখানে আরও বড় একটা কিন্তু আছে। সেই কিন্তুটা ধরতে হবে। এই যে আমাগো রানা প্লাজার কথাই ধরেন। কী হইল? বিল্ডিংটা পুরা ধইসা পড়ল। কার দোষ, বলেন?

প্রসঙ্গ পাল্টানো এই বক্তৃতার ভেতর দিয়ে মূলত তাদের আলোচনার উত্তাপ কমে গেল।

আমার কাছে মনে হলো সমালোকচকদের আলোচনা খুব সুন্দর ছিল। কয়েকবার মনে হচ্ছিল টিভিতে টকশো দেখছি। কিন্তু বারবারই মনে হচ্ছিল টকশোতে কী যেন নাই, কী যেন নাই। তাদের আলোচনাটা যখন তুঙ্গ থেকে নিচে পড়ে গেল তখন বুঝলাম, যা নাই তা হলো একজন উপস্থাপক। উপস্থাপক থাকলে যেটা হয়, তিনি প্রসঙ্গের সুতা ধরে হালকা টান মারেন। একজন টকারকে অন্য টকারের কথার সূত্র ধরিয়ে দিয়ে ঝগড়ায় ফিরিয়ে আনেন। এসব কারণে আলোচনা কখনো মন্দা হতে পারে না। সব সময় উত্তপ্ত থাকে। গালাগালি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত হয়ে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান সেদিনের মতো বন্ধ করে দিয়ে টিআরপির হিট লিস্টে উঠে যায়।

রিকশায় যেতে যেতে মনে হলো গতি খুব ধীর। কয়েকটা রিকশা ওভারটেক করে গেল। হঠাৎ এক রিকশাওয়ালা ওভারটেক করে যেতে যেতে আমার রিকশাওয়ালাকে দাঁতে দাঁত চাপা হাসি হেসে বলল, বউরে খোয়াব দেখতেছ নি? বলে খিঁকখিঁক করে হাসতে হাসতে চলে গেল।

আমার রিকশাওয়ালার প্রতিক্রিয়া দেখতে না পেলেও আমি বুঝতে পারলাম, খুব খারাপ। কিন্তু সে কিছু বলল না বা তার কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা গেল না। আমি কিছুটা অবাক হলাম। মানুষ এতটা নির্বিকার থাকে কীভাবে?   

আমরা হাউজিং সোসাইটির রাস্তায় ঢুকলাম। এ রাস্তাটা সব সময় ফাঁকা থাকে। কোনো শব্দ নেই। সুনসান নীরবতা। প্রধান ফটকে ঢোকার মুখে বেশ কিছু গাছগাছড়া। পাখির কিচিরমিচির। ফুলের সুবাস। প্রশান্তির ছোঁয়া। বেশ ভালো লাগে।

রিকশাওয়ালা পেছন ফিরে তাকাল। সে মাঝ বয়সী। কালো। ঠোঁট দুটো আরও কালো। সব সময় দাঁত বেরিয়ে থাকে। হলুদ দাঁত। এসব ছাপিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট হলো। তার চোখে-মুখের ক্লান্তি।

রিকশা ধীরে চলে ক্যান জানেন ছার?

কেন?

না থাক।

থাকবে কেন? বলো।

বললে মাইন্ড করবেন না তো?

না।

আমার রানের চিপায় খুজলি হইছে ছার। কালকে রাতে বরিক পাউডার দিছিলাম নারকোল তৈল দিয়া। তাতে  আরও বাইড়া গেছে। এক্কেরে থিকথিকে ঘা হয়া গেছে  ছার। দেখলে আপনি ডরায়া যাবেন।

রিকশাওয়ালা এমনভাবে বলতে লাগল, আমার মনে হলো সে বুঝি লুঙ্গি উঁচু করে তার খুজলি দেখাবে। কিন্তু সে তা করল না।

বাসার সামনে নেমে রিকশা ভাড়ার সাথে বাড়তি ২৫টি টাকা দিলাম রিকশাওয়ালাকে। দিয়ে বললাম, খুজলির ওষুধ কিনে নিও!

ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় রিকশাওয়ালা ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

আমি বললাম, একজন হকার আছে অল্প বয়স্ক, দেখতে সুন্দর, বাসে বাসে রানের চিপায় খুজলির ওষুধ বিক্রি করে। সিঅ্যান্ডবি স্ট্যান্ডে চা খায়। তার কাছ থেকে ওষুধটা কিনে নিও, কেমন?

প্রিয় সাহিত্য/কে এন দেয়া/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
৭৪ বছর আগের ছবিতে আবেগপ্রবণ নির্মলেন্দু গুণ
তাশফিন ত্রপা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মানসিক হাসপাতালে কবি নজরুলের নাতি সুবর্ণ
তাশফিন ত্রপা ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট