(প্রিয়.কম) সরকারি পর্যায়ের আমদানিকৃত চাল গতকাল পর্যন্ত প্রবেশ করেনি সরকারি গুদামে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গতকাল পর্যন্ত সরকারি চালের মজুদ মাত্র ১ লাখ ৬৫ হাজার টন, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম মজুদ। আর এই কম মজুদের কারণে ওএমএসসহ দরিদ্রবান্ধব সব কর্মসূচিতে চাল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে খাদ্য অধিদফতর।

বিগত কয়েক মাস ধরে এমনিতেই চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। তার ওপর কয়েক দফার বন্যা চালের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এ কারণে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ ছাড়া এখন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ। কারণ গত ২ মে থেকে সারা দেশে খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে (ওএমএস) চাল বিক্রি বন্ধ রেখেছে খাদ্য অধিদফতর।

আর গত ১ জুলাই থেকে ভিজিএফ, ভিজিডি এবং জিআরের মতো দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিতেও চাল বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অবশ্য বন্যাদুর্গত কয়েকটি এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় ১৫ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলে খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান বলেন, বিগত দুই মাস ধরে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত চালের মজুদ এখন কম। তাছাড়া এখন বোরো সংগ্রহ মৌসুম চলছে। সাধারণত আমরা সংগ্রহ মৌসুমে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ রাখি। আর ভিজিএফ, ভিজিডি এবং জিআরের মতো দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিতে চাল বিতরণ বন্ধ থাকার কারণ অর্থবছরের সমাপ্তি। বিদায়ী অর্থবছরের জন্য যে চাল বরাদ্দ ছিল তা গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১ জুলাই থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর চালু হলেও নতুন এই বছরের জন্য বাজেট আসেনি আমাদের হাতে। বিভিন্ন জেলা, বিভাগ এবং সরকারি সংস্থা থেকে নতুন বাজেট এলেই আমরা বরাদ্দ দেব। আশা করছি আগামী মাস অর্থাত্ আগস্টেই আমরা এসব দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিতে চাল সরবরাহ করতে পারব।

কিন্তু এখন দেশে চলছে বন্যা। সেই সঙ্গে বাজারে চালের উচ্চমূল্য। সে কারণে বর্তমান সময়েই বেশি করে ওএমএস এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে চাল বিক্রি ও বিতরণ করা দরকার ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল