(ইলিয়াস আহমেদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহার করা হবে- এমন আশ্বাস পেয়ে তৃতীয় দিন শেষে অনশন প্রত্যাহার করেছে জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

১৭ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন প্রত্যাহার করে নেয়।

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, সাধারণ  সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলী প্রমুখ শহীদ মিনারে উপস্থিত হন।

পরে প্রশাসনের করা মামলা যত দ্রুত সম্ভব উঠিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, ‘দ্রুত মামলা প্রত্যাহার বিষয়ে যে প্রসেস (প্রক্রিয়া) রয়েছে, তা ফলো (অনুসরণ) করে কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’ 

শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, শিক্ষক সমিতির মধ্যস্থতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অনশন প্রত্যাহার করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে শুক্রবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক ও পদচারী-সেতু (ফুটওভারব্রিজ) নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে পুলিশ।

হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। সে সময় ৪২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রশাসনের করা মামলায় আটক শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তবে ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থী আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এর পর থেকেই শিক্ষকদের একটি অংশ এবং শিক্ষার্থীরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ ছাড়া ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ও ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এ দুটি ব্যানারে শিক্ষকদের একাংশ এবং শিক্ষার্থীরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বশেষ ১৫ জুলাই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার আরও তিন শিক্ষার্থী এবং সোমবার আরও তিন শিক্ষার্থীর অনশনের যোগদানের মাধ্যমে ওই কর্মসূচিতে মোট আট শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত