(প্রিয়.কম) বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ১৩ নভেম্বর সোমবার (স্থানীয় সময়) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলনের এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি প্রসঙ্গটি ওঠলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। 

অধিবেশন শেষে সু চির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা সাংবাদিকদের জানান ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রোক জুনিয়র। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আনান কমিশনের প্রস্তাব মেনে চলছে বলে জানিয়েছেন।’

বৈঠকে সু চি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান রোক জুনিয়র। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়।

আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলন।

আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দী, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি-ভিডিও এবং সব ধরনের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ উপসংহারে উপনীত হওয়া যায় যে, ‘রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ।’

অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী খুন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, কুপিয়ে হত্যাসহ বর্বরতার চূড়ান্ত সীমাও অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্থাটি বলেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৮টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম। সংস্থাটি আরও জানায়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

গত ০৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়শন (সিপিএ) সম্মেলনে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিধনযজ্ঞসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার তীব্র নিন্দাও জানানো হয়। সিপিএ’র মহাসচিব আকবর খান রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন বন্ধ ও তাদের নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়ে সাধারণ সভায় বিবৃতি তুলে ধরেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

গত ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় আড়াইআনি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘টেকনাফ ও উখিয়ার জনসংখ্যার চেয়ে তিন গুণ বেশি রোহিঙ্গা সেখানে এসে পড়েছেন। ’

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ