(প্রিয়.কম) খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এর উপস্থিতি দেখা গেছে গতকাল।

কিন্তু কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন ছিল, কোথায় তাবিথ?

প্রিয়.কমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দলের কর্মসূচিতে হাজির হন তাবিথ। আন্দোলনে তাকে পাশে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাঠের সহযোদ্ধারা।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে তাৎক্ষণিক আন্দোলনে স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী সরব থাকলেও ক্রমশই জোরদার হচ্ছে বিএনপির আন্দোলন। আর তারই প্রতিফলন দেখা গেলো প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে।

বস্তির শিশু কাঁধে তুলে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন ওই সময়ের মেয়র প্রার্থী তরুণ ব্যবসায়ী রাজনীতিক তাবিথ আউয়াল।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাজনীতির আলোচনায় আসেন তিনি। এক বছর পর ২০১৬ সালে বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন এবং ২০১৮ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে আবারও তাবিথকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

দলীয় মনোনয়ন লাভের পর বিভিন্ন সময় তাবিথ আলোচিত হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিক আন্দোলনে মেয়র প্রার্থী তাবিথকে না পেয়ে দলের সহকর্মীরা তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজতে শুরু করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, একটা রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নেতাকর্মীরা কাজ করে থাকেন। তাবিথ আউয়ালের ক্ষেত্রেও সেরকম ঘটেছে। তার বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। রাজপথের কর্মসূচিতে তাদের নিয়মিত দেখা না গেলেও দলের অর্থদাতা হিসেবে পরিবারের পরিচিতি রয়েছে। এছাড়াও কূটনীতি এবং ক্রীড়াঙ্গণে সক্ষমতা রয়েছে তার।

মানববন্ধনে তাবিথের পাশে ছিলেন এমন কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা হয় প্রিয়.কমের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুব দলের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা প্রিয়.কমকে বলেন, 'আগে মনোনয়ন আর পদ লাভের সময় তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে আলোচনা হত। এখন তিনি ম্যাডামের মুক্তি দাবির আন্দোলনে রাজপথে নেমেছেন। তার মতো নেতাদের পাশে পেয়ে আমরা আরও শক্তিশালী হচ্ছি।'

মানব বন্ধনে তাবিথের পাশাপাশি অবস্থান নেওয়া বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, 'ঝড়ের পাখি, শীতের পাখি, বসন্তের পাখি যে যাই বলুক মাকে [খালেদা জিয়া] বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে হলে সবাইকে রাজপথের আন্দোলনে নামতে হবে।'

বিগত সময়ে দলের কর্মসূচিতে সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা না গেলেও এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, 'এটা রাজনীতির শুভ লক্ষণ।'

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা এবং দলের সাংগঠনিক কর্মসূচীতে অংশ নেয়া প্রতিটি নেতাকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই খালেদা জিয়ার সাময়িক অনুপস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল (ঢাকা বিভাগ) প্রিয়.কমকে বলেন, 'বিগত দিনে কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও এখন যে বা যারা অংশ নিচ্ছে এটা ভালো খবর এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, খালেদা জিয়ার সাময়িক অনুপস্থিতি আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি। মূলকথা মুক্ত খালেদা জিয়া চেয়ে বন্দী খালেদা জিয়া আরও বেশি জনপ্রিয় এবং আমাদের মাঝে ঐক্যবদ্ধ তৈরি করতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।'

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন প্রসঙ্গে দলটির তৃণমূল পুর্ণগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান প্রিয়.কমকে বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যেখানে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্তরীণ করা হয়েছে সেখানে দলের নেতাকর্মীদের বসে থাকার সময় নেই।'

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আমাদের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'বিগত দিনে দলের কিছু নেতাদের কর্মসূচিতে দেখা না গেলেও বর্তমানে সকলেই স্বউদ্যোগে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার বিকল্প নেই।'

প্রিয় সংবাদ/অনীকা/গোরা