আসা যাওয়ার মিছিলের মাঝেও তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৬ রান। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) হারে শুরু হলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। অধিনায়ক তামিম ইকবালের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসের সুবাদে কলাবাগানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছিলো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। কিন্তু জয়ের ধারায় থাকা হলো না তাদের। তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অগোছালো এক মোহামেডাকে দেখা গেল। ফল হিসেবে ম্যাচ হলো বড় ব্যবধানে।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে শুক্রবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে সাত উইকেটে হেরে গেছে মোহামেডান। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বাগড়ায় ম্যাচ কমিয়ে আনা হয় ৪১ ওভারে। 

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রাইম ব্যাংকের আল আমিন জুনিয়রের বোলিং তোপের মুখে ৩৬.১ ওভারে ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় মোহামেডান। ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪৯ রান। যা সাব্বির-তৈবুরদের দারুণ ব্যাটিংয়ে তিন উইকেট হারিয়েই তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক। 

ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি প্রাইম ব্যাংকের। দলীয় ১০ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ ও সৌম্য সরকার। বল হাতে এমন শুরু পেয়ে তখন হয়তো লড়াই করার কথাই ভাবতে শুরু করেছিলো মোহামেডান। কিন্তু মোহামেডানকে সেই সুযোগ দেননি সাব্বির রহমান। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান উন্মুক্ত চান্দকে নিয়ে কিছুটা সময় পার করেন। 

চান্দ ১৪ রান করে ফিরলে তৈবুর রহমানের সাথে জুটি গড়েন সাব্বির। তাদের ৯৭ রানের অবিচ্ছিন্য জুটিতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রাইম ব্যাংক। এসময় লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। শেষপর্যন্ত ৭৫ বলে চার চার ও পাঁচ ছয়ে হার না মানা ৭৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। এছাড়া তৈবুর অপরাজিত ৪২ রান করেন।

এরআগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও সুবিধা করতে পারেনি মোহামেডান। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান শুভ। কিন্তু শামুসর রহমান বিদায় নিতেই এলোমেলো হয়ে যায় মোহামেডানের ইনিংস। শেষ ৯৯ রান তুলতে বাকি নয় উইকেট হারিয়ে বসে তারা। 

এদিন প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বল হাতে জাদু দেখিয়েছেন ম্যাচসেরা আল আমিন জুনিয়র। মাত্র ২৫ রান খরচায় পাঁচ উইকেট তুলে নেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। তবে এর মাঝেও ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন আগের ম্যাচে ১৫৭ রান করা তামিম। এছাড়া শামসুর ১৩, রহমত শাহ ২৪, রকিবুল হাসান ও নাজমুল হোসেন মিলন ১২ রান করে করেন। পেসার আল আমিন দুটি এবং রুবেল, সৌম্য ও আরিফুল একটি করে উইকেট নেন।