(প্রিয়.কম) প্রস্তাবিত নবম ওয়েজবোর্ডে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমকে অর্ন্তভূক্তির কথা জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তবে ওয়েজবোর্ডে অন্তর্ভূক্ত যদি হয়ও, তাতে নিজেদের সমস্যার সমাধান দেখছেন না টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকেরা। চাকরি হারানোর ভয়ের সংস্কৃতির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি ছাড়া সাংবাদিকদের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের অনেকেই।

কর্মরত বেশ কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক জানিয়েছেন, নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ অনেক প্রতিষ্ঠান। লিমিটেড কোম্পানি আইনের অধীনে পরিচালিত টেলিভিশনগুলোতে শ্রম আইন কার্যকর থাকার পরও যেকোনো মুহূর্তে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকেন তারা। আর পেশাগত ঝুঁকিতে পড়লে পাশে না দাঁড়ানোর প্রবণতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এমন পরিস্থিতিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নবম ওয়েজবোর্ডের অন্তর্ভূক্ত হবে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন আটকে আছে সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক প্রতিনিধি না পাওয়ার কারণে। জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে গত ৭ মে তথ্যমন্ত্রী জানান, বিচারপতি নিজামুল হককে প্রধান করে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে ওই বোর্ডের জন্য সাংবাদিক প্রতিনিধিদের নাম দেওয়া হলেও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় আটকে আছে তা।

ওয়েজবোর্ডের আওতায় আসছে টেলিভিশনগুলো, এমন খবরে টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের খুব একটা লাভ হবে না-এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে একুশে টেলিভিশনের জয়েন্ট নিউজ এডিটর আরিফ রেজা মাহমুদ বলেন, ‘সংবাদপত্রের মতো টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড নেই। টেলিভিশন লিমিটিড কোম্পানি আইনের অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুসারে সেখানে শ্রম আইন মানতে হবে। কোনো টেলিভিশন মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মানেন? মানেন না। কারণ ক্ষমতা এক পাক্ষিক। আপনি লেবার কোর্টে গেলে ভবিষ্যতে কেউ চাকরি দেবে না। একেবারে একটা ভয়ের সংস্কৃতি চলে এখানে। দিনের পর দিন এসব সেক্টরে কোনো সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অডিট করে না সরকার। তো কর্মীরা যাবে কোথায়? তাই ওয়েজবোর্ড হলেও তাতে যে লাভ হবে, বলি কী করে! না দিলেও তো কেউ কিছু বলার নাই।’

আরিফ রেজা মাহমুদের ছবিটি তার ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

আরিফ রেজা মাহমুদের ছবিটি তার ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

এই বক্তব্যের সমর্থন মিলে জিটিভির (গাজী টিভি) সিনিয়র নিউজ এডিটর হাসান জাকিরের কথায়ও। তিনিও মনে করেন, প্রস্তাবিত ওয়েজবোর্ড টেলিভিশন সাংবাদিকদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের আশা দেখাতে পারছে না। তিনি জানান, সাংবাদিকতা পেশার ঝুঁকি ও চাকরির নিশ্চয়তার বিষয়ে ওয়েজবোর্ড কোনো সমাধান দেবে না।

জিটিভির নিউজ এডিটর হাসান জাকিরের ছবিটি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া

জিটিভির নিউজ এডিটর হাসান জাকিরের ছবিটি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া

সংবাদপত্র শিল্পে অষ্টম ওয়েজবোর্ড কার্যকর থাকলেও তা বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন টেলিভিশনে কর্মরত অনেক সিনিয়র সাংবাদিক। তবুও তারা নিজেদের জন্য ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করেননি-এমন অভিযোগ করে হাসান জাকির বলেন, ‘এই ঘটনা তাদের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে’।

এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

একই প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন আরিফ রেজা মাহমুদও। তিনি বলেন, ‘অনেক টেলিভিশনে সাংবাদিকরা এন্ট্রি লেভেলে গার্মেন্টস কর্মীর সমান বেতন পায়। ফলে ওয়েজবোর্ডের দাবি ওঠে। সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড আছে, আবার ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, সেটা দেখার জন্য সরকারি বডি আছে। সেই বডিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি আছেন। যে পত্রিকার বেতন ভাতা তো দূর কেউ নামও শোনেননি তাদেরকেও আমাদের ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে ক্লিয়ারেন্স দেন কেন? তারা অজুহাত দেখান পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে সবাই বেকার হয়ে যাবে। আদতে কারণটা সবারই জানা। তো টেলিভিশনের ক্ষেত্রে একই অজুহাত তারা দেখাবেন তা সহজেই অনুমেয়।’

তাই রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রপার সার্ভিল্যান্স (নজরদারি) ছাড়া ওয়েজবোর্ড হলেও সেটা কাজে আসবে না’, যোগ করেন তিনি।

প্রিয় সংবাদ/রিমন