ইন্দুরকানীর স্থানীয় বাজারে সুপারি বাছাই করে বস্তায় ভর্তি করছেন আড়ৎদাররা। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দুরকানীতে সুপারির বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি

ইন্দুরকানীতে সুপারির বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি

মশিউর রহমান রাহাত
কন্ট্রিবিউটর, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:০০
প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:০০


ইন্দুরকানীর স্থানীয় বাজারে সুপারি বাছাই করে বস্তায় ভর্তি করছেন আড়ৎদাররা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) পিরোজপুরে ধানের পরেই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল হিসাবে সুপারির স্থান। লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসাবে এ অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি সুপারির চাষ করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলে সুপারি উৎপাদনে প্রসিদ্ধ একটি নাম পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা। আর তাই এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাঁচা ও পাকা সুপারি চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শুধু দেশেই নয়, এ সুপারি এলসির মাধ্যমে যাচ্ছে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে।

এ উপজেলায় চন্ডিপুর, ঘোষেরহাট, পত্তাশী, বালিপাড়া, বটতলা, পাড়েরহাট, লাহুরী, এবং ইন্দুরকানী সদরে সপ্তাহে দু’দিন করে সুপারি কেনাবেচার হাট বসে। এদের মধ্যে সুপারি বেচা-কেনার সবচেয়ে বড় মোকাম হচ্ছে- চন্ডিপুর হাট, পত্তাশী বাজার ও ঘোষেরহাট। এ উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের ১৩টি হাট বাজারের মধ্যে আটটি বাজারে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সুপারি কেনা-বেচা হয়। হাটের দিনে সকাল থেকেই এসব বাজারে শত শত চাষী বস্তা ও ঝুড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। আর এ কেনা বেচা চলে বিকেল পর্যন্ত।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় পাইকার ও মহাজনরা আসেন এসব হাটে সুপারি কিনতে। দিনের কেনা বেচা শেষে তারা লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাকে করে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, শরিয়তপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপারি চালান করেন। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলে কাচা এবং পাকা সুপারি কেনা-বেচা। কেউ কেউ আবার সুপারি কিনে শুকিয়ে টাডি হিসাবে পরে বিক্রি করে থাকেন।

আড়ৎদারেরামোকামে সুপারি বাছাই এবং বস্তাবন্দি করছেন। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি। সেই সাথে দামও কিছুটা বেশি। তাই দাম তুলনা মূলকভাবে বেশি থাকায় চাষীরাও বেশ খুশি। এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতি কুড়ি (২১০টি) পাকা সুপারি স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫’শ টাকা দরে। তবে এখন বাজার নেমে এসেছে অর্ধেকে অর্থ্যাৎ আড়াই’শ থেকে ৩’শ টাকার মধ্যে। আর কাচা সুপারি দেড়’শ থেকে ২’শ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। শ্রেণিভেদে কাচা ও পাকা দুই ধরনের সুপারি দাম কমবেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া শুকনো সুপারি প্রতি মণ ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলোতে।

এদিকে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭’র ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় সিডরে দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সুপারি গাছের। তখন বে-সরকারি হিসাবে দেখা গেছে সিডরের কারণে বড় বড় গাছ চাপা পড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ সুপারি গাছ মারা যায়। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ হয় আরও প্রায় ২৫ শতাংশ গাছ।

চন্ডিপুর হাটের সুপারির আড়ৎদার আক্তার হোসেন জানান, ফলন ভালো হওয়ায় এবার হাটে সুপারি কেনা বেচা বেশি হচ্ছে। মোড়েলগঞ্জ থেকে চন্ডিপুর হাটে আসা সুপারি ব্যাবসায়ী হালিম জানান, এ বছর সুপারির বাজার দর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তা ছাড়া এবার ফলনও বেশ ভালো। তাই চাষীরা ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় অনেক খুশি। শুধু চন্ডিপুর হাট থেকেই প্রায় ৫’শ বস্তা সুপারি প্রতি হাটে কিনে নিয়ে যান বেপারিরা।

ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদিন ভূঁইয়া বলেন, সুপারি এ অঞ্চলের একটি অর্থকরী ফসল। এ উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি সুপারির চাষ হয়। এবার ফলন এবং দাম দুটোই বেশি। প্রতি বছর দাম ঊর্ধ্বমূখী হওয়ায় এ উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে সুপারি গাছের চারা লাগাচ্ছেন চাষীরা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...