(প্রিয়.কম) ভালোবাসা, ভালোবাসা, যার আর কোনও নাম নেই। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে)। যদিও ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন হয় না। তারপরও কালের বিবর্তনে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা প্রকাশের আনুষ্ঠানিক এক দিবসে পরিণত হয়েছে। এদিন ভালোবাসার মানুষের কাছে মনের সব অব্যক্ত কথা প্রকাশে পায় বাড়তি স্পৃহা। একে অপরের চুপকথা শুনবার ও শোনানোর দিন। এই দিন থেকেই কারো কারো চুপকথাগুলো হয়ে যাবে রূপকথা। হয়ে উঠবে সারাজীবন মনে রাখার মতো গল্প।

ফাগুনের শুরুতে সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও রঙে রঙিন হবে প্রেমিকযুগল। মোবাইল মেসেজ, ই-মেইল অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমবার্তা পাঠান ভালোবাসার মানুষেরা। এ ছাড়া চকোলেট, গ্রিটিংস কার্ড থেকে শুরু করে শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হয়।


গুগল ডুডল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।  

এ দিনকে ঘিরে গুগল ডুডলে ভালবাসা দিবসের প্রতীকী। গুগলে (www.google.com) গেলে ডুডলটি দেখা যাচ্ছে। বসন্ত উৎসবের রেশ না কাটতেই আবার উৎসবের আমেজ ছড়াচ্ছে ভালোবাসা দিবস। রাজধানীতে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশে গত আড়াই দশক ধরে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। মূলত ভ্যালেন্টাইন ডে উদ্যাপনের শুরুটা প্রাচীন রোমে। তখন ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল বিয়ের দেবী জুনোকে সম্মান জানানোর পবিত্র দিন। দিবসটি অনুসরণ করে পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন করা হতো লুপারকেলিয়া উৎসব। 

সে সময় তরুণ-তরুণীদের খোলামেলা দেখা-সাক্ষাতের তেমন সুযোগ ছিল না। জীবনসঙ্গী নির্বাচনে তাদের জন্য ছিল লটারির মতো একটি আয়োজন। উৎসবের সন্ধ্যায় বেশ কিছু কাগজের টুকরোয় তরুণীদের নাম লিখে একটি পাত্রে রাখা হতো। একটি করে কাগজের টুকরো তুলত তরুণরা। কাগজের গায়ে যার নাম লেখা থাকত তাকে সঙ্গী হিসেবে পেত তরুণটি। কখনও কখনও ওই দু’জনের মিলনের ক্ষণ এক বছর স্থায়ী হতো। কখনও কখনও তা গড়াত বিয়েতে।

অপর গল্পটি এ রকম, সম্রাট ক্লদিয়াসের শাসনামলে রোম কয়েকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু তার সেনাবাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা কম ভর্তি হওয়ায় ক্লদিয়াস উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। 

তিনি ধারণা করতেন, পরিবার ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণেই যুদ্ধে যেতে রাজি হতো না পুরুষরা। ফলে ক্লদিয়াস সমগ্র রোমে সব ধরনের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সে সময় রোমে ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি এবং সেন্ট ম্যারিয়াস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীদের গোপনে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। বিবাহিত যুগলদের সহযোগিতা করতেন। এ অপরাধে রোমের ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। বন্দী থাকা অবস্থায় অনেক তরুণ তাকে দেখতে যেত। জানালা দিয়ে তার উদ্দেশে চিরকুট ও ফুল ছুড়ে দিত। হাত নেড়ে জানান দিত, তারা যুদ্ধ নয়, ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখে। এদের মধ্যে একজন আবার ছিল কারারক্ষীর মেয়ে। তার বাবা তাকে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতেন। 

এক পর্যায়ে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যান। ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখে রেখে যান। এতে লেখা ছিল ‘লাভ ফ্রম ইয়র ভ্যালেন্টাইন’। বিচারকের নির্দেশ অনুসারে সে দিনই ভ্যালেনটাইনকে হত্যা করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই আত্মত্যাগের দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। কালের ধারাবাহিকতায় আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল