বিদেশে পড়ার স্বপ্ন ছিল পিয়াসের

পিয়াসের মৃত্যুর খবর শারমিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছিলেন। ভেবেছিলেন পিয়াস বেঁচে অাছে।

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০১৮, সময় - ২০:১৮

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের ছাত্র পিয়াসকে (বাঁয়ে) নিয়ে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তার বান্ধবী শারমিন অাক্তার। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পড়াশোনায় ভালো ছিলেন পিয়াস রায়। তার স্বপ্ন ছিল বিদেশে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন টগবগে এই তরুণ।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের ছাত্র পিয়াস রায় সম্পর্কে কথাগুলো জানিয়েছেন তার বান্ধবী শারমিন অাক্তার।

২২ মার্চ, বৃহস্পতিবার পিয়াসের লাশ নেপাল থেকে অাসছে শুনে ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে ছুটে যান তার সঙ্গে এমবিএসএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শারমিন। বন্ধুকে একনজর দেখবেন বলে দুপুর অাড়াইটারও অাগে হাজির হন রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অাট নম্বর গেটের সামনে। এ সময় শারমিনের সঙ্গে তার মাকেও দেখা গেল।

শারমিন জানান, সবসময় বন্ধুদের সঙ্গে পড়ালেখা নিয়ে কথা বলতেন। গত ৫ মার্চ তারা এমবিএসএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর শারমিন ঢাকায় তাদের বাড়িতে চলে যান, পিয়াস ছিলেন ক্যাম্পাসেই। কিছুদিন পরই ইন্টার্ন করে চিকিৎসক হতেন দুজন। কিন্তু তার অাগেই পিয়াস চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

শারমিন বলেন, ‘ওর পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছিল। ও সব প্রশ্নের উত্তর লিখেছিল। রেজাল্টও ভালো অাসবে। কিন্তু সে তো নেই।’

নেপালে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার অাগে দুবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন পিয়াস। এ ছাড়া ছয়বার তিনি গিয়েছিলেন ভারতে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছ থেকে পিয়াসের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা জানতে পারেন শারমিন। ভেবেছিলেন বেঁচে অাছে। এখন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছেন। এরপরও হয় না বিশ্বাস।

পিয়াসের অারেক বন্ধু দলিলুর রহমান তন্ময়। তিনিও পিয়াসের মুখটা একনজর দেখার জন্য ছুটে অাসেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে। পিয়াস তার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন।

তন্ময় বলেন, ‘পিয়াসের ভ্রমণ করাটা একটা নেশা ছিল। এ কারণে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরত সে। জানতাম না সে নেপালে বেড়াতে গেছে। বিষয়টা ফেসবুক থেকে জানতে পেরেছি।’

শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. লিয়াকত অালী তপন বলেন, ‘ও খুব মেধাবী ছিল। কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে। এবারের পরীক্ষাতেও সে ভালো করেছে।’

বন্ধু ও কলেজের অধ্যক্ষকে দেখে তাদের কাছে যান পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায়। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

‘দেশে ছেলের লাশ ফেরত অাসছে শুনে খুব ভালো লাগছে। ও খুব মেধাবী অার পরোপকারী ছিল’, বলেন সুখেন্দু রায়।

পিয়াসের লাশ প্রথমে নিজ মেডিকেল কলেজে নেওয়া হবে। সেখান থেকে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে নেওয়ার পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/আজহার

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন