সুচিকে স্টুপিড বললেন অর্থমন্ত্রী

‘আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক চাই না। কিন্তু মিয়ানমারই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করছে।’

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সময় - ১৪:৫০

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল ‍মুহিত। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিতে নোবেল পাওয়া দেশটির সরকারদলীয় নেতা অং সান সু চির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ‘ঘৃণিত’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির পরামর্শদাতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর তিনি যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে তা সহ্য করছে, তা আমার বোধগম্য নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার স্টুপিডিটি সমর্থনযোগ্য নয়।’

এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক চাই না। কিন্তু মিয়ানমারই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি অনানের একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দিন রাখাইনের বেশ কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর পরপরই ‘সন্ত্রাসীদের’ রুখতে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। যদিও সেখান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, হত্যা ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার এ সংখ্যা আরও বহুগুণ বেশি। তাদের ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণের পর হত্যা করছে, পুরুষদেরও বর্বরোচিত নির্যাতনের পর হত্যা করছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

অং সান সুচি। ফাইল ছবি

অং সান সুচি। ফাইল ছবি

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে যে রাখাইনে বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই সময়ে দেশটির সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্য-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে। 

রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকেন নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।    

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন