'প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী' অস্ত্রধারী নিয়াজুলকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহিৃত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়াজুলকে গ্রেফতার করতে। তবে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।'

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিয়.কম
১৮ জানুয়ারি ২০১৮, সময় - ১৯:৪৮

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সাবেক যুবলীগ নেতা নিয়াজুল। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী 'প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী' সাবেক যুবলীগ নেতা নিয়াজুলকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহিৃত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়াজুলকে গ্রেফতার করতে। তবে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।'

এরই মধ্যে নিয়াজুলকে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বুধবার নগরের রাইফেলস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'নিয়াজুল ইসলাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও যুবলীগের সিনিয়র ত্যাগী নেতা। তাকে তিনবার মারধর করলে সে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রেব করে।'

শামীম ওসমান আরও দাবি করেন, 'বিএনপির সন্ত্রাসী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। নিয়াজুল একজন ব্যবসায়ী এবং তার অস্ত্রটি বৈধ।'

তবে শামীম ওসমানের বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল কাদির। তিনি বলেন, 'শামীম ওসমান মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত। যখনই কোন ভুল করেন, তখনই মিথ্যা বলে পার পেতে চেষ্টা করেন। এটা অনেকদিন থেকেই দেখে আসছে মানুষ। নিয়াজুল যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামলার দিন মেয়র আইভীকে হত্যার জন্যই হাতে অস্ত্র নিয়ে গুলি করে নিয়াজুল। নিয়াজুলই প্রথমে মেয়রকে বাধা দিয়ে চলে যেতে বলে এবং এরপরই মেয়রের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।'

কাদির আরও বলেন, 'নিয়াজুল মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্র হাতে তেড়ে আসে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাকে প্রতিহত করে। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের দিন শেষ হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জে আর সন্ত্রাসীরা সুবিধা করতে পারবে না। যে ভালো কাজ করবে তার উন্নতি হবে। যে মন্দ করবে তার পতন হবে।'  

নিয়াজুল সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিয়াজুল ১৯৮৮ সালের আগস্টে চাষাড়ায় জোড়া খুনের অন্যতম অভিযুক্ত আসামি ছিল। ওই মামলায় জেলও খেটেছিল সে। এ ছাড়া সে হত্যা ও অস্ত্রসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি ছিল। যুবলীগের সাথে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ওইসব মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে।'

এদিকে আজ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে দেখা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হকারদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সাথে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলোতে বিকেল পাঁচটার পর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত হকার বসতে পারবে । এদিকে মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

এর আগে ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক লোক।

প্রিয় সংবাদ/নোমান

 

 

 

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন