রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার কাজ করছে: আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এতে উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৭, ১৭:২২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:০০
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৭, ১৭:২২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:০০


রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। 

১৬ মে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হয়েছে চতুর্থ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সংশোধনাগার ব্যবস্থাপকদের (কারেকশনাল ম্যানেজার) নিয়ে আঞ্চলিক সম্মেলন। তিন দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ১৮ মে বৃহস্পতিবার।

‘কারাগারের মধ্যে নিরাপত্তা এবং মানবিক চাহিদার ভারসাম্য’ শিরোনামে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ২৮ জন জ্যেষ্ঠ সংশোধনাগার ব্যবস্থাপক অংশ নিচ্ছেন। দেশে এবারই প্রথম কারা অধিদপ্তর ও আইসিআরসি যৌথভাবে এ ধরনের আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন করছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রেড ক্রস আমাদের বন্ধু সংস্থা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এতে উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা অন্য রাষ্ট্রের কারা নিরাপত্তা ও এ বিষয়ে নানা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাব।’

স্বরাষ্ট্রসচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশের কারাগারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা আইসিআরসির সঙ্গে একটি গতিশীল কাজের সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। এই অঞ্চলে আমাদের সমকক্ষদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছি। আমরা আশা করি, অংশগ্রহণকারীরা প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে শিখবে এবং তাদের নিজস্ব বন্দি-সুবিধাগুলো উন্নত করতে অনুপ্রাণিত হবে।’

আইসিআরসি বাংলাদেশের প্রতিনিধি-প্রধান ইখতিয়ার আসলানভ বলেন, ‘আইসিআরসি সুষ্ঠুভাবে কারাগার ব্যবস্থাপনা করতে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে উৎসাহিত করে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বন্দিদের হয়ে আমাদের কাজ পরিচালনা সহজতর হবে।’

সম্মেলনে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন কেস স্টাডি ব্যবহার করে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। কারাগার বা বন্দিশালাগুলো তৈরি, নকশা প্রণয়ন, পরিকল্পনা এবং পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ও মানবিক অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়েও আলোচনা হবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ হচ্ছে কম্বোডিয়া, চীন, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভানুয়াতু। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ কারাগারে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সেবার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেবে।

গত বছরের কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পর কারাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় যে ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলো আলোচনা করবে। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা-পর্যালোচনা হবে।

প্রিয় সংবাদ/ইরফান/শান্ত