ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ ও বড় ঋণ গ্রহীতাদের আরও বেশি সুযোগ দিতে চায় সরকার।

৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় ‘বড়দের বড় সুযোগ দিতে চায় সরকার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- বড় ঋণ গ্রহীতাদেরর্ ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আইনে বড় ঋণ গ্রহীতাদের আরও বেশি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পরিচালকরা আরও বেশি সময় ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন। পরিচালক পদে একই পরিবারের সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বড়দের সুযোগ বাড়িয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংশোধনীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এভাবে ছাড় দিয়ে আইন সংশোধন করা হলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে একজন পরিচালক তিন বছর করে দুই মেয়াদে ছয় বছর পরিচালক থাকতে পারেন। কিন্তু আইন সংশোধন করে এর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়াতে চায় সরকার। ফলে পরিচালকরা টানা তিন মেয়াদে নয় বছর পরিচালক পদে থাকতে পারবেন।

বর্তমানে কোনো ব্যাংকে একই পরিবারের দুজনের বেশি পরিচালক থাকতে পারেন না। সংশোধিত আইনের খসড়ায় বেসরকারি ব্যাংকে একই পরিবারের তিন বা চারজনকে একই সঙ্গে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করার বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বর্তমান আইনে কোনো ব্যাংকে একই পরিবারের বা ব্যক্তির ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করার সুযোগ নেই। এর বেশি শেয়ার থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক অতিরিক্ত শেয়ার বা সমুদয় শেয়ার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। নতুন আইনে একই পরিবারের শেয়ার ধারণের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংশোধিত আইনের খসড়া ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে ব্যাংক মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ থেকে ৯ বছর করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, এ ধরনের সংশোধনীর যৌক্তিকতা নেই। ৬ বছর অনেক লম্বা সময়। ৯ বছর আরও বেশি সময়। আর একই পরিবারে পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানো হলে পারিবারিক প্রভাবের মাত্রা আরও বাড়বে। তখন ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের মাত্রা কমে যাবে।

বর্তমানে ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নতুন পরিচালক মনোনীত করা হলেও তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পরই নিয়োগ কার্যকর হবে। ব্যাংকের এজিএমে পরিচালক নিয়োগ হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুমোদন না করলে নিয়োগ কার্যকর হবে না। নতুন আইনে এসব ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বিধানটি উঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বড় ঋণ গ্রহীতারা কোনো ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি নগদ ঋণ নিতে পারে না। পরোক্ষ ঋণ হিসেবে দিতে পারে আরও ২০ শতাংশ। কিন্তু উদ্যোক্তারা চাচ্ছেন আরও বেশি ঋণ নিতে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এতে আপত্তি জানিয়েছে।

তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে ঋণের কোটা বাড়ানো হলে বড় গ্রাহকরা বেশি ঋণ নিয়ে যাবে। এতে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এ সংক্রান্ত ৩টি সংশোধনী প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। এখন তা খসড়া বিল হিসেবে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, এ ধরনের সংশোধনীর ফলাফল ভালো হবে না। কায়েমি স্বার্থবাদীরা চলে আসবে। এটি করা ঠিক হবে না। সরকারের আরও চিন্তা করা উচিত। এ ধরনের উদ্যোগ নিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে। পারিবারিক পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানো ঠিক হবে না। এমনিতেই ব্যাংকের অবস্থা আরও খারাপ। এরপর পারিবারিক পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানো হলে ব্যাংকের সার্বিক কর্মকা- ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ ছাড়া ব্যাংক মালিকদের একাধিক প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিচালক নিয়োগে পূর্বানুমোদন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের মতামতে বলেছে, ব্যাংকের সিংহভাগ তহবিলের জোগানদাতা আমানতকারীরা। তাদের অর্থের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত ও পেশাগতভাবে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রয়োজন। তা করতে হলে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন বিধানটি বহাল রাখা প্রয়োজন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল