ফাইল ছবি
(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরে আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনায় সরকারের আহ্বানে সাড়া মিলছে না। এ ব্যাপারে সরকারের পরিপূর্ণ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। রোহিঙ্গা স্থানান্তরে কর্মপরিকল্পনা পুরোপুরি জানার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক মহল।

ঢাকায় একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার দৈনিক যুগান্তর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থান করা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে সরকার বঙ্গোপসাগরে হাতিয়ার কাছে ঠেঙ্গারচর দ্বীপে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও তার পাশের জেলাগুলোতে নানা সংকট সৃষ্টি করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের বলা হয়েছে।

রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রায় ৬০ বিদেশি কূটনীতিককে ডেকে এসব কথা বলেন। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আবাসনের সুবিধা আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সেখানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন, আশ্রয় কেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব কাজ সম্পাদনের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেছে।

ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার পর বিদেশি কূটনীতিকরা স্থানটি পরিদর্শন করে দেখতে পারবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়ারে মায়াদোন সোমবার তার গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ থাকার পরও রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ জায়গার ব্যবস্থা করেছে। আমরা তাদেরকে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছি। কেননা রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে সরকার যে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া চাইলে পিয়ারে মায়াদোন বলেন, ‘এই বিষয়ে কর্মকৌশল সম্পর্কে আমাদের আরও বেশি করে জানা প্রয়োজন। এই মূহূর্তে এ সম্পর্কে তেমন কিছু বলাটা অনেক আগেভাগেই বলা হয়ে যাবে। আমরা সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই। বর্তমানে এটি সংজ্ঞার পর্যায়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে রোহিঙ্গাদের পাশে আছে ইইউ। এটা কোনো নতুন কিছু নয়। আমরা মিয়ানমার সরকারের প্রতিও সেখানে রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছি।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বর্তমানে কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। তার বাইরে খুপরি ঘর করে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে বাস করছেন।

গত বছরের ৯ অক্টোবর সীমান্ত চৌকিতে হামলায় মিয়ানমারের নয়জন ‘বর্ডার গার্ড পুলিশ’ (বিজিপি) নিহত হন। তার জের ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে।

এই অভিযানে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬৯ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন বিদেশি কূটনীতিক সোমবার  বলেছেন, ‘বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠককালে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন না। তবে মিয়ানমার দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেছেন।’

 ওই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধি বৈঠকে রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে আপত্তি করেছেন। তিনি এসব নাগরিক মিয়ানমার থেকে এসেছেন বলে দেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারেও আপত্তি জানান। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, তারা কোন দেশের নাগরিক সে বিষয়টি যাচাই হওয়ার আগেই তাদের ঢালাওভাবে মিয়ানমারের নাগরিক বলা উচিত নয়।’

প্রিয় সংবাদ/আলম