(ইলিয়াস আহমেদ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১৬ জুলাই রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এদিকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা রাত ৮টায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিচারাধীন ও তদন্তাধীন বিষয়কে প্রভাবিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য আন্দোলন ও অনশনরত শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে অনশনরত শিক্ষার্থীরা। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনরত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করছি এবং আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে।’ 

এর আগে শিক্ষার্থীদের অনশনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ’। ঐক্য মঞ্চের আহবায়ক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘আমরা তাদের (অনশনরত শিক্ষার্থীদের) সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি। তবে আমাদের (শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চের) ঘোষিত অন্যান্য আন্দোলন কর্মসূচি চলবে।’ 

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের। ছবি: প্রিয়.কম

এদিকে অনশনরত দুই শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাস ও সর্দার জাহিদুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনশনের ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে শর্করার অভাব দেখা দেওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা।

এর আগে ১৫ জুলাই শনিবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে আমরণ অনশন শুরু করে পূজা বিশ্বাস ও সর্দার জাহিদুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার তাদের সঙ্গে যোগ দেন তাহমিনা জাহান ও খান মুনতাছির আরমান নামে আরও দুই শিক্ষার্থী ওই আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য গতকাল থেকেই প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা বিভাগ কাজ করছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তাররা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যাচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।  

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে শুক্রবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নিতে খবর দেওয়ার এক ঘণ্টা পরে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা মারা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পাসে জানাযার নামাজও পড়তে দেয়নি।

পরদিন ২৭ মে শনিবার সকাল হতেই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক ও পদচারী-সেতু (ফুটওভারব্রিজ) নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে পুলিশ।

হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। সে সময় ৪২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রশাসনের করা মামলায় আটক শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তবে ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থী আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এর পর থেকেই শিক্ষকদের একাংশ এবং শিক্ষার্থীরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বশেষ ১৫ জুলাই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন দুই শিক্ষার্থী। পরে ১৬ জুলাই রোববার আরও দুই শিক্ষার্থী ওই অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত