ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) রিজার্ভে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় লোকসান করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নে গত দুই অর্থবছরে লোকসান (উসুলকৃত ও অউসুলকৃত) হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় তার আগের বছরগুলোয় মুনাফায় ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লোকসান’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক বনিক বার্তায়  প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বর্ণ ও রৌপ্যর পাশাপাশি ছয়টি বিদেশী মুদ্রায় রিজার্ভ সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিংহভাগ রিজার্ভই রাখা হয় মার্কিন ডলারে। এর বাইরে ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, কানাডিয়ান ডলার, ইউরো ও জাপানি মুদ্রা ইয়েনেও রিজার্ভ রাখা হয়। ব্রেক্সিটসহ বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে রিজার্ভে রক্ষিত পাঁচটি মুদ্রারই অবমূল্যায়ন হয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নজনিত আয়ে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর রিজার্ভে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নজনিত ক্ষতির (উসুলকৃত ও অউসুলকৃত) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে উসুলকৃত ক্ষতির পরিমাণ ৮৫ কোটি টাকা। মুদ্রা ছেড়ে দেয়ায় এ টাকা আর ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। বাকি ৫৩৪ কোটি টাকা এখনো অউসুলকৃত হিসেবে রয়েছে। ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়িত মুদ্রাগুলোর দর বাড়লে এ ক্ষতি কমে আসবে।

গত অর্থবছরের মতোই ২০১৪-১৫ অর্থবছরও বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নজনিত বড় অংকের লোকসান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থবছরটিতে এ বাবদ লোকসান ছিল ৩ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে উসুলকৃত ক্ষতির পরিমাণ ৯ কোটি ৬২ লাখ ও অউসুলকৃত ৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।

বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্মূল্যায়নজনিত এ লোকসানকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি উত্তরণে অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথাও বলছেন তারা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়তে থাকলে রিজার্ভের ৬০-৭০ শতাংশই মুদ্রাটিতে রাখা হয়। আবার ডলারের দাম নিম্নগামী হলে অন্যান্য মুদ্রায় ভাগাভাগি করে রিজার্ভ রাখা হয়। বিশ্ববাজার পরিস্থিতির ওপর যথার্থ নজর রাখতে ব্যর্থ হলে লোকসান হবেই। দুই বছর ধরেই ডলারের বিপরীতে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম কমছে। এজন্য অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভের অর্থ সংরক্ষণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

ডলারের বিপরীতে অন্যান্য বৃহত্ অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার মানে গত কয়েক বছর বড় ধরনের পতন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ড অবমূল্যায়িত হয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। গত অর্থবছর আরো অবমূল্যায়িত হয়েছে মুদ্রাটি। ২০১৫-১৬ অর্থবছর ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ড দর হারিয়েছে ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরও পাউন্ডের অবমূল্যায়নের এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্নভাবে বিনিয়োগ করে। এসব বিনিয়োগ থেকে প্রতি বছরই মোটা অংকের আয় হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিজার্ভে থাকা অর্থ বিভিন্ন মুদ্রায় রাখা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এটি নিয়মিতভাবে রিভিউ করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/রুবেল/খোরশেদ