(প্রিয়.কম) চট্টগ্রাম জেলায় নিখোঁজ হয়েছে ২৬৩ যুবক। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর ধরে, কেউ তিন বছর ধরে নিখোঁজ। এই যুবকদের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই। নিখোঁজ হওয়ার পর কারও কারও পরিবার থানায় যোগাযোগ করে জিডি করেছে। চট্টগ্রামে এত যুবক লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে গোয়েন্দাদেরও। চট্টগ্রামে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ফের নিখোঁজদের ব্যাপারে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কতদিন ধরে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, তা আবার হালনাগাদ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে নগর পুলিশের বিশেষ শাখাকে। তবে এবার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের ব্যাপারেও তথ্য নিতে বলা হয়েছে। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জঙ্গি তৎপরতায় নিখোঁজদের সম্পৃৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘চট্টগ্রামে লাপাত্তা ২৬৩ যুবককে নিয়ে উদ্বেগ’ শিরোনামে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, 'চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার বেশ কিছু তরুণ নিখোঁজ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধরে আমরা কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি। এগুলো আবার হালনাগাদ করা হবে। কোন জেলায় কত মানুষ নিখোঁজ তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশ সুপারদেরও। হঠাৎ চট্টগ্রামে বেড়ে যাওয়া জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।'

নগর ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে নিখোঁজ ছিল ১১৪ জন। এর মধ্যে নগরের ১৬ থানায় ২০১৩ সালে ২৩ জন, ২০১৪ সালে ২৯ জন, ২০১৫ সালে ৪৬ জন এবং ২০১৬ সালে ১৬ জন ছিল। এদের মধ্যে ছয়জন ফিরে এলেও বাকি ১০৮ জনের হদিস মেলেনি। নগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলার অন্য থানাগুলোতে নিখোঁজ ছিল ২০৮ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৩ ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ জনের খোঁজ মিললেও বাকিদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।

 

প্রিয় সংবাদ/খোরশেদ