ক্ষতিগ্রস্ত চলনবিলের রসুন চাষিরা। ফাইল ছবি

‘সাদা সোনা’ খ্যাত রসুন নিয়ে বিপাকে চলনবিলের চাষিরা

অবশ্য চলতি বছরে রসুনের বাজার দর নেমে যাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা রসুন চাষিরা।

পবিত্র তালুকদার
কন্ট্রিবিউটর, পাবনা
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৪৯
আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২২:০০


ক্ষতিগ্রস্ত চলনবিলের রসুন চাষিরা। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) বিনাহালে রসুন আবাদ অধিক লাভজনক হওয়ায় গত দুই-তিন দশক ধরে চলনবিল এলাকার রসুন চাষীরা ব্যাপক পরিমাণ জমিতে রসুনের আবাদ শুরু করেন। রসুন চাষের জন্য চলনবিল এলকার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো দেশব্যাপী আলাদা পরিচিতি ও লাভ করে। এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয় রসুন। বেশির ভাগ দরিদ্র পরিবার রসুন চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন। যে কারণে চলনবিল এলাকার মানুষের কাছে ‘সাদা সোনা’ খ্যাতি পায় রসুন।

অবশ্য চলতি বছরে রসুনের বাজার দর নেমে যাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা রসুন চাষিরা। তবে আবাদ ভালো হওয়ায় কয়েকমাস আগেও রসুন চাষিদের মুখে ছিল হাাসি। এখন সেই হাসি ম্লান হতে বসেছে। অপরদিকে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। বাড়ির গৃহবধূ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররা এখন মাঠ থেকে রসুন তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়ে থাকে।

এবছরেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রসুনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র চাটমোহরে ৬ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়। লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে হলেও তার চেয়ে ৫শ’ হেক্টর জমিতে বেশি রসুন চাষ হয়। তবে অতি সম্প্রতি শিলাবৃষ্টিতে চাটমোহরের ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রসুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে শ্রমিক সংকটে জমি থেকে রসুন তুলতে দেরি হচ্ছে। এতে করে জমির মাটিতেই বেশির ভাগ রসুন পচে নষ্ট হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। এ ছাড়া পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও কদর বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলনবিল এলাকার রসুনের খেতগুলো এখন নারী শ্রমিকের কোলাহলে মুখরিত।  

চাটমোহরের চিনাভাতকুর গ্রামের রসুন চাষী লুৎফর রহমান, রজব আলীসহ বেশ কয়েকজন রসুন চাষী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে রসুন হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ মন। ছোট বড় গড়ে প্রতিমন রসুন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা। এ হিসাবে বিঘাপ্রতি কৃষকের লোকসান হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

মামাখালী (বনমালী নগর) গ্রামের রসুন চাষী আশরাফ শেখ জানান, শিলাঘাতে বেশির ভাগ জমিগুলোর রসুন নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে বাজারে নামমাত্র দামে রসুন বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম না বাড়লে প্রতিটি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী জানান, আকষ্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে রসুনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ক্ষতির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
স্বাস্থ্যরক্ষায় অনন্য রসুন... | কালের কণ্ঠ
স্বাস্থ্যরক্ষায় অনন্য রসুন... | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ১ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রসুন
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রসুন
নয়া দিগন্ত - ১ দিন, ২১ ঘণ্টা আগে
হিমাগার না থাকায় ক্ষতির মুখে ফুল চাষিরা
হিমাগার না থাকায় ক্ষতির মুখে ফুল চাষিরা
সময় টিভি - ৪ দিন, ২ ঘণ্টা আগে