ছবি সংগৃহীত

হাওর এলাকা সংকটাপন্ন, সরকারের তৎপরতা নেই: গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ‘অসময়ে টানা বর্ষণ, উজানের পাহাড়ি ঢল ও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্র্ণ হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। সোনার ফসল হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হাওরবাসী।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১১:১৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১৬
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১১:১৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১৬


ছবি সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ‘হাওর এলাকার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের তেমন কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সরকারের একজন সচিব বলেছেন, কোনো এলাকার অর্ধেক মানুষ মারা না গেলে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা যাবে না, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’ 

২৯ এপ্রিল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘হাওরের মহাবিপর্যয়কে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা এবং হাওরবাসীকে রক্ষায় দ্রুত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবিতে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত নাগরিক মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। 

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ‘অসময়ে টানা বর্ষণ, উজানের পাহাড়ি ঢল ও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্র্ণ হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। সোনার ফসল হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হাওরবাসী।’

হাওর এলাকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করে তিনি দেশের শস্যভান্ডার খ্যাত এইসব হাওর অঞ্চলকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণার এবং সেখানকার মানুষকে জরুরি সহায়তা দেয়ার দাবি জানান।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের হাহাকারের কারণ যেমন প্রাকৃতিক, তেমন মনুষ্য সৃষ্টি। যাদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। এত বিপর্যয় ও ক্ষয়-ক্ষতির পরেও কেন এ অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হলো না, তা জাতির নিকট বোধগম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাওর এলাকা ডুবে গেছে, আগামী বৈশাখের আগে ঐ এলাকা ভাসবে না। সুতরাং এই মৌসুমে আর ফসল ফলানোর সুযোগ নেই। কোনো সবজি ফলানোর সম্ভাবনাও নেই। সুতরাং এসকল এলাকায় খাদ্য সরবরাহে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। হাওরাঞ্চলের বিষয়টি একটি জাতীয় দুর্যোগ। এ সকল এলাকার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিলেই হবে না, তাদের ঋণও মওকুফ করতে হবে। বাঁধ নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘হাওর এলাকার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কতটা প্রকট ও তীব্র, তা আমরা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য থেকেই অনুধাবন করতে পারি। ‌তিনি হাওরে এমন ক্ষতি জীবনে দেখেননি। আমরা মনে করি, দ্রুত হাওর এলাকাসমূহকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা দরকার। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম তদন্ত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষতি হাওর এলাকায় বর্তমানে খাবার ও পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানকার দুই কোটি মানুষ যখন খাবার পাবে না, তখন তারা জমি বিক্রি করতে শুরু করবে। এতে তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবে? তারা বর্তমান দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সাধারণ জনগণকে নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি গঠনের আহবান জানান।’

ন্যাপ ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসচীতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব শামসুজ্জামান দুদু, সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিএনপি নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ সোহেল, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন, জিনাফ সভাপতি মিয়া মোঃ আনোয়ার, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন, সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, দেশবাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রাকিবুল ইসলাম রিপন, যুবনেতা আবদুল্লাহ আল কাউছারী, ছাত্রনেতা সোলায়মান সোহেল প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...