(প্রিয়.কম) কোরআন শরিফ ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে নবী মুহাম্মাদের (সা.) উপর অবতীর্ণ হয়েছে। মুসলমাদের জন্য কোরআন একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কোরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙক্তি সংখ্যা ৬,২৩৬ টি। আসমানি গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোরআনই সর্বশেষ নাযিল হয়েছে। এর পরে আর কোন গ্রন্থ নাযিল হয়নি এবং হবেও না।

কোরআন তিলাওয়াত একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা রাসূলকে (সা.) নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কোরআন তিলাওয়াত করুন- সুবিন্যস্তরূপে ও সুস্পষ্টভাবে (সূরা মুজাম্মিল, আয়া-৪)। কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত বর্ণনা প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যারা সর্বদা কোরআন তিলাওয়াত করো কিয়ামতের দিন কোরআন তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে (মুসলিম)।’ আমাদের সবারই উচিত কোরআন তেলাওয়াত করা এবং সর্বোত্তম রূপে তেলাওয়াত করা।  নিন্মে সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতকারী বিশ্বসেরা ১০ জন ক্বারীর  সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

১. মিশারি রশিদ আলাফাসি : তিনি একজন কুয়েতি নাগরিক। একজন প্রসিদ্ধ কারী ও একজন মুনশিদ বা নাশিদ শিল্পী। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন কুয়েতে। ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে কুয়েতেই তার জন্ম হয়। তিনি মূলত সুন্দর কণ্ঠে কোরআন পাঠের জন্য বেশি পরিচিত। অনেক শ্রোতা তার কণ্ঠে কোরআনে শুনে প্রভাবিত হয় এবং তাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেন। তিনি আবু রশিদ মিশরী আলাফাসি নামেও পরিচিত।

২. আবদুল রহমান আল-সুদাইস : তিনি বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে সুন্দর ও সুখ্যাত কোরআন শরিফ তেলাওয়াকারি। তার সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে আবদুল রহমান ইবনে আবদুল আজিজ আস-সুদাইস। তিনি ১৯৬০ সালে পবিত্র সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র মক্কার মসজিদে হারামের ইমাম ছিলেন এবং বিখ্যাত কারী হিসেবেও প্রসিদ্ধ। ২০০৫ সালে দুবায়ের আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন পুরস্কার অনুষ্ঠানে বছরের সেরা ইসলামিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুদাইসী বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন, বিশ্ব নেতৃত্ব দানকারীদের শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। এই জন্য অমুসলিমরা তার তীব্র সমালোচনা করে।

৩. সৌদ আল-শুরাইম : তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদ মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খাতিবের একজন। সেই সাথে বিচারক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। তিনি ফিক্হ ও আরবি কবিতার উপর অনেক বই রচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন যুদ্ধের বিষয়ে গবেষক। তার পূর্ণ নাম হচ্ছে সৌদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-শুরাইম। তিনি ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন ডক্টরেট (পিএইচ.ডি) ডিগ্রী প্রাপ্ত। বর্তমানে মক্কার উম্ম আলকুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়জিত আছেন।

৪. সাদ আল গামিদি : শায়খ সাদ আল গামিদি ১৯৬৭ সালে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কোরআন হেফজ সম্পূর্ণ করেছেন ২২ বছর বয়ছে। তিনি আন্তর্জাতিক কারী হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বের প্রথম সারির একজন তাজবীদ বিশারদও। কেরাত ও তাজবীদে তার অবদান অতুলনীয়। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ইমাম এবং ইসলামিক স্কলার। তিনি ল, এর উপর ডক্টরেট করেছেন দাম্মাদ ইউনিভার্সিটি থেকে।

৫. শায়খ আবু বকর সাতরী : শায়খ আবু বকর সাতরী আন্তর্জাতিক মানের একজন ক্বারী। বিশ্বের ৫০ জন কোরআন গবেষকের মধ্যে তিনি একজন। ১৯৭০ সালে সৌদিআরবের প্রসিদ্ধ শহর জিদ্দায় জন্ম গ্রহণ করেন।  তিনি সৌদি আরবের সেরাদের তালিকার একজন ইমাম ও কোরআন গবেষক। আবু বকর সাতরী তার সুমধুর কণ্ঠের জন্য বিখ্যাত। সুমধুর কণ্ঠের কারণে অনেক পুরুস্কারও পেয়েছেন।  তিনি এডুকেশন অব জিদ্দা থেকে কোরআনের উপর  গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার চার বছর পরে শায়খ আয়মানি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট শেষ করেন। শায়খ আবু বকর শাতরী ক্বারীদের মধ্যে পঞ্চম স্থানে আছেন। 

৬. ইয়াসির আল দোশারী : তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতকারিদের তালিকায় ছয় নম্বরে। তার কণ্ঠস্বর খুবই সুন্দর ও মুগ্ধ কর। তিনি মসজিদ দাখিলের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদটি পবিত্র সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত।

৭. মাহের আল মুয়াক্কি : তিনি ১৯৬৯ সালের ৭ই জানুয়ারি পবিত্র সৌদি আরবের মদিনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর এবং বিখ্যাত কারীদের মধ্যে ৭তম স্থানে রয়েছেন। তিনি মক্কার আল-মসজিদে আল-হারাম ও মদিনাতে মসজিদে আল-নাবাহায় দুই মসজিদেই শেখ মাহের আল-মুয়াঈলীর নেতৃত্বাধীন ছিলেন।

৮. আবদুল বাসিত আবদ ইউস-সামাদ : তিনি ১৯২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আর মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৮ সালে। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত মিশরীয় কারী। অনেক আধুনিক কারী তার শৈলী অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তিনি ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার লাভ করেছিলেন।

৯. কেরী ওয়াহিদ জাফর কাশ্মী : তিনি মূলত ৬-৭ বছর বয়সে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করেন। তিনি ৯ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন। তিনি সারা বিশ্বের অনেক কারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি সুন্দর, নরম এবং হৃদয় স্পর্শকরী কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারতেন। আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিযোগিতায় তিনি জয়ী হয়েছেন।

১০. আসাদ আততারী আল মাদানী : তিনি বিশ্বের সব থেকে সুন্দর কোরআন তেলাওয়াতকারিদের মধ্যে দশম স্থান লাভ করেছেন। তিনি তার সুন্দর তেলাওয়াতের কারণে মূলত বিখ্যাত হয়েছেন। তিনি পাকিস্তানে বসবাস করেন। বর্তমানে নাত খয়ানের একটি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদটি পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে।

সূত্র : ডিজিটালমিডিয়া.নেট