(প্রিয়.কম) একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা ১৮টি আপিল দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এসব মামলার বিচার থমকে আছে।

গত বছরের ৩০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাশেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর নতুন কোনো আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত হয়নি। যদিও জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর করা রিভিউ আবেদন গত ১৫ মে খারিজ করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপর গত দুই মাসে আর কোনো মামলা তালিকায় আসেনি।

আপিল বিভাগে বিচারাধীন আপিলের বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। আন্তর্জাতিকভাবেই বিচার হচ্ছে। আমাদের দেশেও বিচার চলছে। ’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এ পর্যন্ত যতগুলো রায় হয়েছে তার কয়েকটি কার্যকর হয়েছে। আপিল বিভাগে কিছু বিচারাধীন রয়েছে’।

এসব মামলার বিচার আপিল বিভাগে থমকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগে অপরাপর মামলার বিচার চলছে। তবে যুদ্ধাপরাধের মামলার বিচার থমকে আছে বলতেই পারেন। আশা করি শিগগিরই অন্যান্য আপিলের বিচার শুরু হবে। কারণ আইনেই বলা আছে তাড়াতাড়ি বিচার নিষ্পত্তি করার কথা। ’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে বিচারাধীন আপিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাবনার মাওলানা আবদুস সুবহান (মৃত্যুদণ্ড), যশোরের সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস (মৃত্যুদণ্ড), হবিগঞ্জের সৈয়দ মো. কায়সার (মৃত্যুদণ্ড) ও মহিবুর রহমান বড় মিয়া (মৃত্যুদণ্ড), রংপুরের এ টি এম আজহারুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), পিরোজপুরের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার (আমৃত্যু কারাদণ্ড), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. মোবারক হোসেন (মৃত্যুদণ্ড), চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান (আমৃত্যু কারাদণ্ড), পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক (মৃত্যুদণ্ড), বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেন (মৃত্যুদণ্ড), নেত্রকোনার আতাউর রহমান ও ওবায়দুল হক তাহের (মৃত্যুদণ্ড), কিশোরগঞ্জের অ্যাডভোকেট সামসুদ্দিন আহম্মেদ ও মোসলেম প্রধান (মৃত্যুদণ্ড), জামালপুরের মো. সামসুল হক ওরফে বদরভাই ও এস এম ইউসুফ আলী (আমৃত্যু কারাদণ্ড)। তাদের মধ্যে শুধু ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের সাজার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে। অন্যদের ক্ষেত্রে আসামিরাই আপিল করেছেন। এই সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার পলাতক। অন্যরা কারাগারে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল