ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যাবে বা যাওয়া উচিত, সার্বিকভাবে এ আলোচনাই দলটির মধ্যে এখন বেশি। কিন্তু কিভাবে বা কতটা ছাড় পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে—এ প্রশ্নে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মতের বেশ অমিল আছে।  

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে বিএনপিতে দুই মত’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দলটির বড় একটি অংশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কিছুতেই নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষপাতী নয়। তাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান থাকলে ভোট সুষ্ঠু হবে না। তিনি নির্বাচন প্রভাবিত করবেন—এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে ওই অংশ বলছে, বিএনপিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কূটকৌশল করছে সরকার। কিন্তু এ ফাঁদে পা দেওয়া ঠিক হবে না।

আর উদারপন্থী বলে পরিচিত অংশটি এখনই কঠোর অবস্থান না নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষে। তাদের মতে, দরকষাকষির মাধ্যমে কিছু দাবি আদায় করার পাশাপাশি শেখ হাসিনার ক্ষমতা খর্ব করা গেলেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে। কারণ জনমত পুরোপুরি বিএনপির পক্ষে আছে বলেই মনে করে তারা। ওই অংশের মতে, নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করা গেলে প্রশাসন ব্যবহার করেও পার পাবে না আওয়ামী লীগ। তাই এ কথায় ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবই না’—এমন কথা এখনই বলে সংকট তৈরি করতে রাজি নয় এ পক্ষটি। তা ছাড়া একতরফা আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকার করে কি না তাও দেখার পক্ষপাতী এ অংশটি।

সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় বলেছেন, নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। আর পৃথক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা না ছাড়লে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে হটিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীন ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে।

তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রথম থেকেই বলে আসছেন, শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স  ইউনিটির এক আলোচনা সভায় স্পষ্ট করেই তিনি বলেন, কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তাঁর এ বক্তব্যকে কঠোর অবস্থান বলে দলের অনেকে মনে করছেন।

কিন্তু আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি ভেঙে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, দল ছেড়ে যারা যেতে চায় যাক না। বিএনপিতে ৩০ লাখ নেতাকর্মী আছে; সেখান থেকে ৩০০ দল ছেড়ে গেলে বিএনপির ক্ষতি হবে না।

প্রিয় সংবাদ/রুবেল/খোরশেদ