দাও মাউ ধর্মের এক উপাসক। ছবি: সংগৃহীত

নারী স্বাধীনতার উপাসনা হয় যে ধর্মে

দাও মাউয়ের বিশেষত্ব হলো, ধর্মটি স্বাধীন নারীদের উপাসনায় নিয়োজিত।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:৪৮
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৩:৪৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৬:৪৮


দাও মাউ ধর্মের এক উপাসক। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিগত কয়েক শতাব্দী ধরেই ভিয়েতনামে দাও মাউ ধর্মটি প্রচলিত। এ ধর্মের জনপ্রিয়তা কখনো বাড়ে, কখনো কমে। তবে সম্প্রতি এর জনপ্রিয়তা বাড়তির দিকে, কারণ ২০১৬ সালে ইউনেস্কো একে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে।  দাও মাউয়ের বিশেষত্ব হলো, ধর্মটি স্বাধীন নারীদের উপাসনায় নিয়োজিত।

৩ জুলাই, মঙ্গলবার ভিয়েতনামে প্রচলিত এ ধর্মটি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন

দাও মাউ ধর্মের জনপ্রিয়তা বেশি কর্মজীবী পরিবারগুলোর মাঝে। ইউনেস্কোর ঘোষণার আগে মূলত কৃষক বা ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে অন্যান্য পেশার মানুষের মাঝেও তা প্রচলিত। এ ছাড়া ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আগত পর্যটকরাও এই ধর্মের বিভিন্ন আচার উপভোগ করতে পারেন।

১৬শ শতকে দাও মাউ ধর্মের উৎপত্তি হয় কনফুসিয়ানিজমের বিকল্প হিসেবে। কনফুসিয়ানিজম এমন একটি ধর্ম যাতে নারীকে দেখা হয় নিস্তেজ, নিরীহ ও পরাধীন হিসেবে। তাদের সম্মান কম এবং সব ক্ষেত্রে তাদের পুরুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর বিকল্প হিসেবেই দাও মাউ ধর্ম এবং মাদার গডেস বা দেবীমাতা লিউ হানের উৎপত্তি।

এই ধর্মের দেবী ভিয়েতনামের নারীদের স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা এবং সুখের প্রতীক। তাদের উপাসনায় এক বিশেষ উপাদান হলো আত্মা ভর করার অংশটি। এ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে কিছু ‘মিডিয়াম’ আছে যারা ধ্যান করে এবং বলা হয় তাদের ওপর আত্মা ভর করে, ফলে কিছু সময়ের জন্য তাদের আচরণ পাল্টে যায়। তারা বিশ্বাস করে এই আত্মা তাদেরকে স্বাস্থ্য, সুখ ও সৌভাগ্য এনে দেবে। এ ছাড়াও তারা বুদ্ধের পূজা করে, লোকনৃত্য করে এবং দেবীর আরাধনা করে।

ভিয়েতনামে কমিউনিস্ট শাসনামলে কুসংস্কার বলে হাউ ডং বা আত্মা ভর করার আচারটি নিষিদ্ধ ছিল ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত। সময়ের সাথে তা আরও আধুনিক হয়ে ওঠেছে। এখন তা আর শুধু ধর্মের অংশ নয়, বরং সংস্কৃতি এবং বিনোদনের মাধ্যম। 

প্রিয় আন্তর্জাতিক/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...