অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। ছবি: রাফিদা আহমেদ বন্যার ফেসবুক থেকে নেওয়া।

‘একান্ত অনুভূতিগুলো সবার সাথে ভাগ করে নিতে ভয় পাই’

'বিজ্ঞানের চোখে সময়ের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক - সময় যেহেতু সবসময় এগিয়েই চলে তাই আমাদেরও সামনে এগুনো ছাড়া আর উপায় কী?'

ফারজানা মাহাবুবা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৭
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৭


অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। ছবি: রাফিদা আহমেদ বন্যার ফেসবুক থেকে নেওয়া।

(প্রিয়.কম) আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে মেয়ে তৃষার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

কিন্তু মেয়ের কাছে আর ফেরা হয়নি বাবার। দেশে আসার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায়কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও হামলায় গুরুতর আহত হন। 

তবে ঘটনার দিন সঙ্গে থাকা অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা বেঁচে গেলেও এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে তেমন কিছু লিখতে ও বলতে দেখা যায়নি তাকে। আর এ নিয়ে অনেকেই গত তিন বছরে প্রশ্ন তুলেছেন এমন একটি ঘটনা নিয়ে বন্যা কিছু লিখছেন না কেন? 

তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার বন্যা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তার নীরব থাকার বিষয় নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি তার নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি লিখেন, 'এই মাসটা খুব ওলোটপালটের মাস। ২৬ তারিখ ক্রমশ এগিয়ে আসতে থাকলে 'ভালো খারাপের' প্রশ্নটাও করতে ভয় লাগে। ফেসবুকে আমার অনুপস্থিতি দেখে অনেকেই কুশল জানতে চেয়েছেন, সহানুভূতি জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে তাই প্রতি বছর এই সময়টা যত এগিয়ে আসতে থাকে তৃষার ভঙ্গুরতাও ততো বাড়তে থাকে।'

সমালোচনার জবাবে তিনি লিখেন, 'গত তিন বছরে অনেকে এটা নিয়ে আমার সমালোচনা করেছেন, আমার 'বাইরের হাসি' দেখে কেউ কেউ বিরক্ত হয়েছেন, প্রকাশ্যে তা জানিয়েছেনও। একজন ব্লগার বন্ধু একদিন এও বললেন যে, আমি নাকি ‘কাওয়ার্ড' তাই নিজের একান্ত অনুভূতিগুলো সবার সাথে ভাগ করে নিতে ভয় পাই। হবে হয়তো! তবে এখনো আমার বিশ্বাস যে, কিছু একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি আছে যেগুলো সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে গেলে তারা তাদের গভীরতা হারায়। গভীরতার তাৎপর্য যে আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কতটা বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে তা আর নতুন করে বলে কী লাভ- আমিই হয়তো ভুল, এসব সূক্ষ্ম মানবিক অনুভূতির হিসেব মেলানো বা এদের 'সঠিকতা / বেঠিকতা' নির্ণয় করা তো আর কোন সহজ কাজ নয়।’

যারা এসময় তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, 'বিজ্ঞানের চোখে সময়ের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক - সময় যেহেতু সবসময় এগিয়েই চলে তাই আমাদেরও সামনে এগুনো ছাড়া আর উপায় কী?'

স্ত্রী রাফিদা আহমেদ ও অভিজিৎ রায় দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে তারা দেশে এসেছিলেন। মেলা থেকে বেরিয়ে বাসায় ফেরার পথে তারা আক্রমণের শিকার হন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার আজ তিনবছর হয়েছে। কিন্তু ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করলেও মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে বারবার।

এদিকে মামলার কার্যক্রম নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার দুপু‌রে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। জানান, লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নি‌ষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলা‌মের (এ‌বি‌টি) সমন্বয়ক মেজর (বরখাস্ত) জিয়া

মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মামলাটি শুরু থেকে ডিবি তদন্ত করতো। ৩ মাস আগে সিটি তদন্তের দায়ভার নেয়। এর আগে ডিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিটি গ্রেফতার করেছে ৩ জনকে। মুকুল রানা নামের একজন ডিবি পুলিশের স‌ঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। সিটির হাতে গ্রেফতার ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী ডিবি ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া ৭ জনের মধ্যে ৩ জনের এই মামলায় কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এছাড়াও তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী আনসার আল ইসলামের প্রধান মেজর জিয়াউলসহ ৫ জনকে খোঁজা হচ্ছে। প্রায় তিনমাস আগে মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ ও আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিটি। সিটির হাতে গ্রেফতার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এখন পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। শনাক্ত হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও বেশিদিন আর মামলাটি ধরে রাখব না, শিগগিরই চার্জশিট দিয়ে দেব’। 

প্রিয় সংবাদ/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...