আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা পাঁচগাঁওয়ের নারীরা বসে শীতলপাটি তৈরি করছে। ছবি: প্রিয়.কম

তারা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে

শীতলপাটি কারিগর নমিতা রানী দে বলেন, ‘পূর্বপুরুষরা আমাদের এই বিদ্যা শিখিয়ে গেছেন। তবে আমরা ভালো নেই। অনেক কষ্ট করে টিকে আছি।’

ইমামুল হাসান স্বপন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৮, ২২:১২ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০১:৪৯
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৮, ২২:১২ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০১:৪৯


আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা পাঁচগাঁওয়ের নারীরা বসে শীতলপাটি তৈরি করছে। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় শীতলপাটি তৈরি করে আসছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা পাঁচগাঁওয়ের ৩০-৩৫টি পরিবার। তারা পাটি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ওই এলাকাটি পাটিপাড়া নামেই পরিচিত। তাদের তৈরি শীতলপাটি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

শীতলপাটির কদর ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। তবে কারিগরদের হাত থেকে পাটি সরাসরি বিদেশে যায় না। কারিগরদের তৈরি এ সব পাটি পাইকারদের মাধ্যমে বিদেশে যায়। 

পাটি তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটিপাড়া গ্রামের পুরুষেরা সিলেট থেকে শীতলপাটি তৈরির বেত সংগ্রহ করে আনেন। শীতলপাটি তৈরির কাজ বেশ সময় ও শ্রমসাপেক্ষ। বাগান থেকে মোটা বেত কেটে এনে ছেঁচে নিতে হয়। তারপর সব মোটা বেত কড়া রোদে শুকানো হয়। দু-একদিন পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর শীতলপাটি তৈরির বেত বা নল তোলা হয়। পাটি তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করতে দু-এক মাস বা তারও বেশি সময় লাগে।

শীতলপাটির দাম পাটি ভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি শীতলপাটির দাম ১৫ শ থেকে শুরু করে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে অর্ডার দিয়ে পছন্দমতো পাটি তৈরি করাতে আরও বেশি খরচ হয়।

একাধিক কারিগরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটি তৈরির কারিগরদের পুনর্বাসন এবং পাটি বিক্রির মৌসুমে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা নেই। সরকারি বা বেসরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ পেলে এ শিল্পটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

শীতলপাটি কারিগর নমিতা রানী দে বলেন, ‘পূর্বপুরুষরা আমাদের এই বিদ্যা শিখিয়ে গেছেন। তবে আমরা ভালো নেই। অনেক কষ্ট করে টিকে আছি।’

মিনা রানী দে নামের আরেক কারিগর বলেন, ‘বাবার বাড়িতে মা-কাকিদের দেখেছি পাটি বানিয়ে বিক্রি করে টাকা আয় করতেন। তাই আমরাও পাটি বানিয়ে বিক্রি করি।’

কমলা রানী ও লোকনাথ চন্দ্র জানান, পাইকাররা এসে আমাদের পাটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিদেশ পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমরা এর দাম পাচ্ছি অত্যন্ত কম। ঢাকার সদরঘাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাদের কাছ থেকে পাটি কিনে নিয়ে বিদেশে বিক্রি করছেন।

এদিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় পাটি তৈরির কারিগররা আর্থিক অনটনের কারণে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পাটি সরবরাহ করতে পারছেন না। অনেকে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে এ ব্যবসায় কষ্ট করে কোনোরকমে টিকে আছেন। তারপরও তারা এ পেশা ছাড়তে রাজি নন। কারিগররা এ শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান।

দুপ্তারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিদা মোশারফ বলেন, ‘পাটি বানানোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রণোদনা কিংবা সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বানানো পাটি দেশ-বিদেশে বাজারজাত করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এ পণ্য দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া খান বলেন, ‘পাঁচগাঁওর পাটিপাড়া এলাকার শীতলপাটির অনেক নাম-ডাক রয়েছে। আমাদের জন্য গৌরবের বিষয় যে, এ শীতলপাটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে।’

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...