(প্রিয়.কম) এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন যাদের কীর্তি মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু ক্রিকেটে আসতে তাদের কতো বাধা পেরোতে হয়েছে, তার হিসেব ক’জন জানে! অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা শারীরিকভাবে অনেক বাধা পেরিয়ে, অনেক কষ্ট সহ্য করেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্রিকেটবিশ্বে। তেমনই কয়েকজন ক্রিকেটারের গল্প নিয়ে এই আয়োজন।

মার্টিন গাপটিল- নিউজিল্যান্ড

 

মার্টিন গাপটিল। ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর নিউজিল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন মার্টিন গাপটিল। ওয়ানডে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করা ব্ল্যাক ক্যাপ ওপেনার তার ব্যাটিং দিয়ে সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছেন সব সময়। কিন্তু এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ক্রিকেটে আসাটাই এক অকল্পনীয় ব্যাপার। নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানেই কাজ করছিলেন। একদিন বড় ভাই বেনের সাথে যাচ্ছিলেন কাজে। দুর্ভাগ্যবসত মালবাহী একটি গাড়ি গাপটিলের পায়ের ওপর দিয়ে তুলে দেন বেন। প্রথমে ডাক্তার পা কেটে ফেলতে চাইলেও পরে বাঁ পায়ের তিনটা আঙুল কাটা পড়ে গাপটিলের! সেই গাপটিলই এখন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের বড় তারকা।

প্যাট কামিন্স- অস্ট্রেলিয়া

প্যাট কামিন্স। ছবি: সংগৃহীত

প্যাট কামিন্স অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলে একটি পরিচিত নাম। ২০১১ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করা এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাতের একটি আঙুল। কামিন্সের সাথে রাগ করে দরজা বন্ধ করতে চেয়েছিলো তার বোন। কিন্তু সে দরজার ফাঁকেই পড়ে যায় কামিন্সের ডান হাতের মধ্যমা। বাধ্য হয়ে কেটে ফেলতে হয় আঙুলের ডগা। তবে তা তাকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখতে পারেনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই অস্ট্রেলিয়া দলে অভিষেক হয় তার। খেলে যাচ্ছেন পুরোদমে। 

ম্যাথু ওয়েড-অস্ট্রেলিয়া

বর্ণান্ধ ম্যাথু ওয়েড। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের নির্ভরযোগ্য উকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জীবনের সব থেকে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ক্রিকেট নিয়ে মাত্রই তখন তার স্বপ্নটা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এমন সময় তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ধরা পড়ে টেস্টিকুলার (অণ্ডকোষ) ক্যান্সার। বেঁচে ফিরেছেন সে অবস্থা থেকে। দুই দফা কেমোথেরাপি দেওয়া হয় তাকে। আছে আরো সমস্যা ওয়েডের। বর্ণান্ধ তিনি। বেশ কিছু রঙ চোখে ধরা পড়ে না তার। যে কারণে প্রায়ই দলের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

জন্টি রোডস- দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডস। ছবি: সংগৃহীত

ফিল্ডিংকে তিনি এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে। বর্তমানেও কাজ করে যাচ্ছেন ক্রিকেট নিয়েই। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্যই এখনও ক্রিকেটবিশ্ব মনে করে জন্টি রোডসের নাম। কিন্তু এই বিশ্বনন্দিত ফিল্ডার শাররীরিকভাবে ছিলেন অসুস্থ। সাবেক এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার ছিলেন মৃগী রোগী। ছয় বছর বয়সে প্রথম ধরা পড়ে তার এই রোগ। শৈশবে এ কারণে হেলমেট পরে মাঠে যেতেন। ২২ বছর বয়সে তার টেস্ট অভিষেক। এক সাক্ষাৎকারে রোডস নিজেই বলেছিলেন, ‘আমরা রোগটা হালকা ছিলো। খুব একটা চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। নিজেই বুঝতাম।’

যুবরাজ সিং- ভারত

 

ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। ছোটবেলায় কোন শারীরিক বাঁধা না থাকলেও ক্যান্সার জয় করে আবারও ক্রিকেটে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার। ২০১১ সালে ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার ধরা পরে যুবরাজের। ২০১২ সাল পর্যন্ত চলে তার কেমোথেরাপি।

ভগবৎ চন্দ্রশেখর- ভারত

ভারতের ভগবৎ চন্দ্রশেখর। ছবি: সংগৃহীত

 

মনসুর আলী খান পতৌদির হাত ধরে তখন ভারত জুড়ে চলছে ‘স্পিন চতুষ্টয়’ যুগ। তারই অন্যতম সদস্য ভগবৎ চন্দ্রশেখর। কিন্তু একজন পোলিও রোগির জন্য এত বড় অর্জন বেশ কষ্টকরই ছিলো। হ্যাঁ, চন্দ্রশেখর ছোটবেলাতে পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এতে ক্ষতি হয় তার ডান হাতের। দীর্ঘ সময় হাত তুলে রাখতে পারতেন না। এ কারণেই জোরের সঙ্গে লেগ স্পিন করতে পারতেন। ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হওয়া চন্দ্রশেখর ভারতের হয়ে ৫৮ টেস্টে পেয়েছেন ২৪২ উইকেট। ভারতের হয়ে খেলেছেন একটিমাত্র ওয়ানডে।

প্রিয় স্পোর্টস/ শান্ত মাহমুদ