(প্রিয়.কম): বর্ষাকালে ঘুরতে যাবার জন্য ঝর্ণার তুলনা হয় না। পাহাড় বেয়ে প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসছে পানি আর সেই পানির সাথে যুদ্ধ করে আপনি কখনও ঝিরিপথে হাঁটছেন নয়ত ঝর্ণার পাশ বেয়ে উঠে যাবার চেষ্টা করছেন। ঝর্ণা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কিন্তু একই সাথে হতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণও। হাত পা ভাঙ্গা থেকে শুরু করে হতে পারে প্রাণহানিও। মাত্র কয়েকদিন আগে খৈয়াছরা ঝর্ণা থেকে একজন পা ভেঙ্গে ফিরলেন। এরও মাস-খানেক আগে দুজন মারা গেছেন পিছলে বিশ ফুট উপর থেকে ধারাল পাথর এর উপরে পড়ে গিয়ে।
 
আসুন, অল্প কিছু কথায় আমরা জেনে নেই কীভাবে সচেতন হয়ে ও কিছু সেফটি প্রাকটিস এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি।
 
ঝর্ণা মানেই উচু জায়গা থেকে লাফিয়ে পড়ছে পানি, আর সেই পানি বয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝিরিপথ। এই ঝিরিপথ দিয়ে পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যায় পানি। যারা ঝর্ণায় যান, তাদের জন্য আকর্ষণীয় একটি কাজ হল এই ঝিরিপথ দিয়ে হেটে যাওয়া। আবার অনেকে ঝর্ণার উপরে উঠে ছবি তোলেন কিংবা লাফ দিয়ে নিচে পড়েন মজা করার জন্য। এই সময়গুলোতেই ঘটতে পারে বাজে ধরনের দুর্ঘটনা।
 
প্রতিরোধের উপায় কি?: এর জন্য আপনাকে অবশ্যই আগে হতে হবে সচেতন। আপনাকে জানতে হবে এবং মানতেও হবে যে ঝর্ণা জিনিসটা মজার হলেও এর মাঝে বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে। এটা যখন আপনি জানবেন ও মানবেন, আপনি নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে যাবেন ও সেভাবেই চলাফেরা করবেন। আসুন, কয়েকটা উপায় জেনে নেয়া যাক।
 
ভাল গ্রিপের জুতা: ঝর্ণা মানেই পানি আর শ্যাওলা এবং পেছল জায়গা। এসব জায়গার উপরে দিয়ে হাটতে গেলে পা পিছলে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। আর পড়ে গেলে নিচে অপেক্ষা করে থাকতে পারে ধারাল পাথর। তাই ঝর্ণায় যাবার আগে বেছে নিন ভাল গ্রিপ আছে এরকম জুতা। ভাল গ্রিপ মানে হল, জুতার নিচে যে আকা বাঁকা নকশা করা থাকে সেগুলো। এই নকশাগুলোর কারণে জুতা পেছল জায়গায় সহজে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে।
 
একবার ভাবুন তো, ভরা বর্ষায় এই জায়গা দিয়ে হেটে যেতে কি কষ্টটাই না হবে আপনার! ছবি: জোবায়ের রায়হান।
 
সাবধানে পা ফেলা: প্রায় সময়ই আপনি যখন ঝিরিপথে যাবেন, তখন আপনার হাঁটু বা গোড়ালি পর্যন্ত পানি থাকবে। এই সময়গুলোতে আপনার পক্ষে বোঝা প্রায় সময়ই অসম্ভব যে পরের পদক্ষেপটা কোথায় ফেলছেন। সেটা হতে পারে কোন গর্ত যেটা হুট করেই কয়েক ফুট গভীর হয়ে গেছে কিংবা হতে পারে ধারাল কোন পাথর, পা দিলেই কেটে ছিঁড়ে যেতে পারে। সেটা হতে পারে আলগা পাথর, আপনি পা ফেলার সাথে সাথেই সেটা নড়ে চড়ে উঠল আর আপনি আপনার ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। প্রতিটা মুহূর্ত আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। সাবধানে পা ফেলতে হবে।
 
লাঠি বা ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার: ট্রেইলে বা ঝিরিপথে হাটার সময় লাঠি বা ওয়াকিং স্টিক অত্যন্ত কাজের একটা জিনিস। পেছল জায়গায় এটা আপনাকে সহযোগিতা করবে। লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটলে পায়ের উপরে চাপ কম পড়ে, সেটাও একটা বাড়তি সুবিধা। তবে মূল সুবিধা হল, ঝিরিপথে হাটার সময় এই লাঠি ব্যবহার করে আপনি কোথাও পা ফেলার আগে দেখে নিতে পারবেন সেটার গভীরতা কত বা পাথরটা নড়বড়ে কি না।
 
একবার ভাবুন তো, ওই উপর থেকে যদি পা পিছলে পড়ে যান, কেমন হবে? ছবি: আবু হোরায়ারা।
 
সাথে দড়ি রাখা: আজকাল উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন দড়ি পাওয়া যায়, যেগুলো ওজনে হালকা কিন্তু অনেক বেশি লোড ক্যাপাসিটি রয়েছে। এরকম এক গুচ্ছ দড়ি সাথে রাখুন, দরকার হতে পারে বিভিন্ন সময়।
 
বিবেচনা বোধ এর ব্যবহার: এতক্ষণ পর্যন্ত যে গুলো উপায় বলা হল, সবগুলোই বেকার হয়ে যাবে যদি আপনি আপনার বিবেচনা বোধটা কাজে না লাগান। ঝর্ণায় গিয়ে কোন কাজ করা নিরাপদ আর কোনটা নিরাপদ নয়, এটা কমোন সেন্স ব্যবহার করেই বোঝা সম্ভব। মজায় ভেসে না গিয়ে আপনি যদি আপনার কমোন সেন্সটাকে কাজে লাগান, নিজের বিবেচনা-বোধ হারিয়ে না ফেলেন, নিজের এবং অন্যদের নিরাপত্তাকে আগে গুরুত্ব দেন, তাহলে কোন দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কমে যায় অনেক খানিই।
 
হাইকিং ট্রেকিং এর জন্য ভাল জুতা কী হতে পারে তা জানতে পারেন এখান থেকে: পর্ব এক। পর্ব দুই। পর্ব তিন। পর্ব চার।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।