গাজীপুর নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে এগোবে বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, খুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনজু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০১৮, সময় - ২২:১৮

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

(‌প্রিয়.কম) গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে এগোনোর কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৬ মে, বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়াপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিএনপির মহাসচিব এ কথা জানান। সে সময় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খুলনার জনগনের সাথে হিপোক্রেসি করেছে তারা (সরকার)। সেখানকার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অবশ্যই গাজীপুরের নির্বাচনে নতুন করে ভাববো, নতুন স্ট্রাটেজি নেব অথবা সিদ্ধান্ত নেব নতুন করে। আলোচনা হবে আমাদের পার্টির সব লেভেলে। কারণ খুলনার নির্বাচনটা নিসন্দেহে আই ওপেনার। সব মিলিয়ে আমরা চিন্তা করব।’

গাজীপুরের নির্বাচনে আপনারা যাচ্ছেন না, এটা কি ধারণা করা যায়- এ প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা গাজীপুরের নির্বাচনে যাবে না– এটা আমরা বলছি না। আমরা বলছি যে, এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় ও এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

যাব কি যাব না- বহু রাজনৈতিক কৌশল আছে, বহু রাজনৈতিক প্রশ্ন আছে। সেটা আমরা আলোচনা করে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ‘নতুন কৌশল নিয়ে’ ভোট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুলনায় ক্ষমতাসীনরা যেভাবে নির্বাচন করছে- এটা নতুন কৌশল। কৌশলটা একেবারে নতুন। দৃশ্যত ভালো, সুন্দর, শান্ত। ভেতরে সব কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে করেছে, ভয়-ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সেখানে একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে তারা।’

বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, খুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনজু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদের আগেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রত্যাশা করছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঈদ পর্যন্ত ম্যাডাম কারাগারে থাকবেন, এটা আমরা মনে করি না। ঈদের আগে অবশ্যই তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন, এটা আমাদের বিশ্বাস। আমাদের দেশের মধ্যে আইনের যে সিষ্টেম আছে, তাতে মনে করি যে, এটাই হওয়াটা উচিত।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে এখন ৬টা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো আছে। সেই মামলাগুলো নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মুভ করব। আইনজীবীদের সাথে আমি আলাপ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে, আগামী ৭-১০ কর্মদিবসের মধ্যেই ওইসব মামলায় জামিন পাওয়া যাবে।’

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জড়ানোর কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলার সাথে বেগম জিয়ার কোনো সম্পর্কই নাই, উনি জানতেনও না এই ফান্ড আসছে, এই ফান্ড যাচ্ছে। উনার কোনো সই নাই। ট্রাস্টি বোর্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তাকে কি করে আসামি করা যায়?

নিম্ন আদালতে যে বিশ্বাস ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তা কিন্তু প্রমাণ করতে পারেনি। নিম্ন আদালতে রায় দিয়ে দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী যে, উচ্চ আদালতে উনি গেট দ্য রিলিজ।’ গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার রায়ের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও গুলশানে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দেখতে যান বিএনপির মহাসচিব। তিনি চিকিৎসকদের কাছে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

প্রিয় সংবাদ/ফারজানা/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন