(প্রিয়.কম) ঠাকুরগাঁওয়ের শুক নদীর তীরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় খইয়া জাল, পলো ও মাছ রাখার পাত্র (খলই) নিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে হাজারো মানুষ। আর মাছ ধরতে নামা মানুষদের বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন তাদের বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনেরা।

১৬ অক্টোবর সোমবার ভোর থেকে বাঁধের গেট খুলে দেয়া হয়। আর এ সময় মাছ ধরতে নামে কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ।

নারী, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও নামেন মাছ শিকারে। সবার হাতে জাল, কারেন্ট জাল, লাফিজাল দিয়ে সাধ্যমত মাছ শিকার করেন। এছাড়া যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নাই তারাও দু’হাত দিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে কাঁদার মধ্যে। সব মিলিয়ে সেখানে মানুষের মধ্যে এক ধরনের মাছ ধরার উৎসব লক্ষ্য করা যায়।


বাঁধের পাড় ঘেঁষে মাছ শিকার। ছবি সংগৃহীত 

স্থানীয়রা ও মাছ ধরতে আসা জেলেরা জানান, এ জলকপাট এখন খোলা থাকবে। আরও বেশ কিছুদিন এখানে মাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রথম দিনেই বেশি ভিড় হয়। 

মাছ ধরার উৎসব উপলক্ষে বাঁধের ওপরে বসেছে খাবারের হোটেল, ফলের দোকান, খেলনা ও প্রসাধনীর দোকান। এলাকার যুবকেরা বাইরের মানুষের মোটরসাইকেল, সাইকেল রাখার জন্য তৈরি করেছেন অস্থায়ী গ্যারেজ।

সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ বলেন, ‘প্রতিবছর এখানে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। শুধু গ্রাম নয়, শহরের অনেক মানুষ এখানে মাছ ধরার জন্য ভিড় করেন।’

আকচা গ্রাম থেকে মাছ ধরতে আসা আব্দুর রশীদ বলেন, ‘প্রতিবছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। আমি ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ৪/৫ কেজি ছোট-বড় মাছ ধরেছি। আত্মীয় স্বজনকে দেওয়ার পর যা থাকবে তা বাড়ির জন্য রাখা হবে।’

মাছ ক্রয় করার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীরাও ভিড় করেছেন এখানে। তারা এলাকার মানুষের কাছ থেকে মাছ কিনে তা বাঁধের ওপর বিক্রি করছেন। যারা মাছ ধরছেন না তারা সেগুলো কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকে শহরের বাজারে মাছ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। 

পাইকারী ব্যবসায়ী বিশু রায় বলেন, ‘ভোর থেকে মাছ কিনতে শুরু করেছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার মাছ কিনেছেন। আর সেগুলো সরবরাহ করছেন শহরের বাজারে।’ এ থেকে তার বেশ লাভ হবে বলে তিনি আশা করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচসুবিধার জন্য সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানায় শুক নদীতে বুড়ির বাঁধ নামের একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়। 

জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদফতর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। আর এ পোনাগুলো যাতে কেউ ধরতে না পারে তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। এরপর শীতের শুরুতে এ মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে। 

প্রিয় সংবাদ/শিরিন