আবারও বেড়েছে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হবার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বন্ধ হচ্ছে না বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত। রাজ্যটিতে অভিযানের নামে চালানো সেনা নির্যাতন থেকে বাঁচতে এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
০২ নভেম্বর ২০১৭, সময় - ২১:৪৯

বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হবার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বন্ধ হচ্ছে না বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত। রাজ্যটিতে অভিযানের নামে চালানো সেনা নির্যাতন থেকে বাঁচতে এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের পর রোহিঙ্গা স্রোত কিছুটা কমে আসলেও ১ নভেম্বর বুধবার দিবাগত রাত থেকে তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।   

জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন ৫ হাজার রোহিঙ্গা। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা জানান, বাংলাদেশের পথে রয়েছেন অন্তত আরও ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরু হলে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গার ঢল নামে। প্রাণ বাঁচাতে দুর্গম পাহাড়ী পথ ও নদী পেরিয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে মাঝখানে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ কিছুটা কমে আসে। কিন্তু শুধু ১৫ অক্টোবরেই হঠাৎ বাংলাদেশে প্রবেশ করে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। ওই রোহিঙ্গা স্রোত সপ্তাহব্যাপী চলমান থাকার পর আবারও স্তিমিত হয়ে আসে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

শাহপরীর দ্বীপের একটি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। ছবি: ফোকাস বাংলা

শাহপরীর দ্বীপের একটি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন রোহিঙ্গারা। ছবি: ফোকাস বাংলা

এদিকে সীমান্তে দায়িত্বরত কক্সবাজার ৩৪-বিজিবি উপ-অধিনায়ক ইকবাল আহমদ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আনজুমানপাড়া সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে কমপক্ষে আরও সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা আটকে দিয়েছে।

নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত মংডু বুচিদং এলাকার আলী আকবর (৫৪) ও আফজল হোসেন (৩৬) জানান, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের দিকে আসছেন আরও প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা। সেখানে প্রচণ্ড শীত ও তীব্র খাদ্যাভাবে তারা পালিয়ে আসছেন। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দিনভর শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষ জলসীমা পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। এ ছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়েও রোহিঙ্গাদের প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

বালুখালীতে নতুন করে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: ফোকাস বাংলা

বালুখালীতে নতুন করে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা শিবির। ছবি: ফোকাস বাংলা

নতুন করে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির কক্সবাজার ৩৪-ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান বলেন, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। তাদেরকে সীমান্তের নাফ নদীর পাড়ে জড়ো করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে নাফ নদী পার হয়ে ৫-৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তাদেরকে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে বসিয়ে রেখেছে বিজিবি।

নতুন আসা এসব রোহিঙ্গাদের শুকনা খাবার ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা দিচ্ছে এনজিও সংস্থার লোকজন বলেও জানান তিনি।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন