(কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে) কক্সবাজারের উখিয়ার পথে পাড়ি দিতে হাজারো রোহিঙ্গা এখন অবস্থান করছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে। নাফ নদী পার হয়ে তারা কয়েকদিন আগে থেকে শাহপরীর দ্বীপে, স্কুল, মাদ্রাসা, সাইক্লোন সেল্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন। এদের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা নাফ নদীর পাড়ে ঝুপড়ি বেঁধে ঘর তৈরি করে থাকছিলেন।

তারা আজ ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া শুরু করে। শনিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপে’র উত্তর পাড়া, বাজার পাড়া, মিস্ত্রি পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, মাইজ্যার পাড়া, তাউঙ্গার পাড়া, পশ্চিম পাড়া, হাজির পাড়া এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

সেখান থেকে শাহপরীর দ্বীপের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক নারী-পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ নৌকা (বোট) নিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের স্রোত বেশি হওয়ার সুযোগে বোট মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দেন। জনপ্রতি ৪০ টাকা। যা কয়েকদিন আগে ছিল ২০ টাকা। স্পিডবোট জনপ্রতি ১০০ টাকা। এর পরও ভাড়া তাদের জন্য কিছুই না। কার আগে কে নৌকায় উঠবে এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।

তাদের অনেকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, আমরা খুব ক্লান্ত। কখন খেয়েছি সে কথা মনে নেই। তারা বেশির ভাগই দুই দিন আগে এই দ্বীপে এসেছে। দ্বীপের জেটি দিয়ে রোহিঙ্গা অনপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় কেবল বাড়তে থাকে রোহিঙ্গা জনস্রোত। তবে বিকেলের দিকে এ স্রোত অনেকটা কমে যায়।

এদিকে ত্রাণের কিছু গাড়ি উখিয়া পার হয়ে কোনমতে টেকনাফ পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে শাহপরীর দ্বীপে সাহায্য অনেক কম আসে। দ্বীপে ত্রাণ আসে খুব কম। যার ফলে দ্বীপে অপেক্ষমান ক্ষুধার্তরা নিধারুণ কষ্টে রয়েছেন। 

সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়র্ডের ইউপি সদস্য ফৌজুল হক প্রিয়.কম-কে বলেন, রোহিঙ্গাদের যে স্রোত ছিল তা অনেকটা কমে এসেছে। আমরা গত কয়েকদিন থেকে মাইকিং করছি, যাতে তারা র্নিদিষ্ট জায়গায় চলে যায়। আজ সকালে ঘাটে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দেখতে পেলাম এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা মাইকিং করার পর তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তাই হয়তো বেশি রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। তা ছাড়া এখানে জোয়াড় ভাটার একটা বিষয় রয়েছে। মাত্র ছয় ঘণ্টা নৌকা, বোট নিয়ে মানুষ পারাপার করা হয়। ওই সময় ছিল পারাপারের আসল সময়। সকালে জেটি দিয়ে কিছু রোহিঙ্গা আসলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমে যায়।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (শাহপরীর দ্বীপ) নূর হোসেনের মোবাইলে একাধিক কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল