বিচার বিভাগের জন্য আজ কলঙ্কের দিন: মওদুদ

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেছে বলেই এ ঘটনা ঘটল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এটা করল। অথচ সরকার রিভিউ আবেদন করতে পারত। সরকার সমন্বিতভাবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি করল।’

জানিবুল হক হিরা
সহ-সম্পাদক
১১ নভেম্বর ২০১৭, সময় - ১৭:২০

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নাকি পদত্যাগ করেছেন! বিচার বিভাগের ও আদালতের স্বাধীনতার জন্য আজ একটি কলঙ্কের দিন। তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। বিচার বিভাগের যে সামান্য স্বাধীনতা ছিল, এই সরকার তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।’

১১ নভেম্বর শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেছে বলেই এ ঘটনা ঘটল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এটা করল। অথচ সরকার রিভিউ আবেদন করতে পারত। সরকার সমন্বিতভাবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি করল।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ঐতিহ্য নিয়ে আমরা যে গর্ব করতাম, তা আর থাকল না। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সরকারের কোনো লাভ হলো কিনা জানি না, তবে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। বিচার বিভাগের মান আমরা উদ্ধার করতে পারব কিনা সন্দেহ আছে।’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে ১০ নভেম্বর শুক্রবার রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রটি ১১ নভেম্বর শনিবার বঙ্গভবনে এসেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে সরকার হেয়প্রতিপন্ন করেছে বলে অভিযোগ করে আলোচনা সভায় মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো। আবার দেশে ফিরে তিনি আদালতে হাজিরা দিয়ে সাপ্তাহিক জামিন পেলেন। বিষয়টি কেমন হলো?

তিনি বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের আইন পেশায় আমি এ ধরনের ঘটনা শুনিনি। এটা করে নেত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলছে। সাপ্তাহিক জামিন দেওয়ার বিষয়টি অশোভনীয় আচরণ। আসলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই বলেই এমনটি হচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই, এটা ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু ভোট হবে না। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে।’

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের হুমায়ুন কবির সভায় সভাপতিত্বে করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন