ছবি সংগৃহীত

প্রিয় গন্তব্য: খাগড়াছড়ির তৈদু ঝর্ণা

খাগড়াছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় ঝর্ণা তৈদু ঝর্ণা ।

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ০৬:৫৭ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ০৬:৫৭ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


ছবি সংগৃহীত
ভরা বর্ষায় তৈদু ঝর্ণা। ছবি: সংগৃহীত।
 
(প্রিয়.কম): তৈদু ঝর্ণা খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। বিশেষ করে যারা একটু এডভেঞ্চার খোঁজেন, তারা খাগড়াছড়ি জেলায় গেলে এই জায়গায় যাবার সুযোগটি ছাড়েন না। প্রায় ৩০০ ফুট উচু এই ঝর্ণাটি সরাসরি নয়, বরং ধাপে ধাপে নেমে আসে, সে কারণে এটা বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। এছাড়া একের ভেতরে দুই এর মত করে আরও এক ঘণ্টা বাড়তি হাঁটলে পেয়ে যাবেন আর একটি ঝর্ণা। সেটিও অনেক আকর্ষণীয়।
 
কোথায়: খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় গভীর বনের ভেতরে এই ঝর্ণা দুটির অবস্থান।
 
 
 
ঝর্ণার পথে ঝিরিপথ। ছবি: সংগৃহীত।
 
কী দেখবেনঃ চাপ্পাপাড়া কিংবা পোমাংপাড়া হতে শুরু হবে দুর্গম পথ। অনেকগুলো ঝিরি, উঁচু নিচু পাহাড়, কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও বুক সমান পানি আর বুনো জঙ্গল পাড়ি দিয়ে অবশেষে প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা হাঁটার পর আপনি পৌঁছবেন ১ম ঝর্ণাটিতে।
 
এটি প্রায় ৬০ ফুট উঁচু। ঝর্ণা-মুখ হতে পানি পাহাড়ের গায়ে পড়ে তা পাহাড় বেয়ে নিচে এসে ছোট একটি হ্রদের সাথে মিলিত হয়েছে। অসাধারণ সেই দৃশ্য। মনে চাইলে ডুব দিয়ে নিতে পারেন সেখানে।
 
প্রথম ঝর্ণার ডানপাশ দিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠলে খুব কাছাকাছি পেয়ে যাবেন ২য় ঝর্ণাটি। এখানে প্রায় ৮০-৮৫ ডিগ্রি এঙ্গেলের ঢাল বেয়ে বানরের মত প্রায় ১০০ ফুট ওপরে উঠতে হবে। ওঠার সময় গাছপালা-লতা ও মাটি থেকে বের হয়ে থাকা শিকড় ধরে ধরে ওপরে উঠতে হবে আপনাকে। উঠেই যে জায়গাটি পাবেন, সেখান থেকেই পানি লাফিয়ে নিচে পড়ে প্রথম ঝর্ণাটি তৈরি হয়েছে।
 
এই পানি আসছে দ্বিতীয় ঝর্ণা থেকে। ঝিরিপথ বেয়ে এক ঘণ্টা হেঁটে গেলে আপনি দেখা পাবেন দ্বিতীয় ঝর্ণার। যাবার পথটি আগের মতই দুর্গম, কখনও কখনও আরও বেশি দুর্গম।
 
তবে একবার পৌঁছে গেলে আপনার সব ক্লান্তি মুছে যাবে। প্রায় ৮০ ফুট উপর থেকে পানি ঝাঁপিয়ে পড়ে অনেক গুলো ধাপ পেরিয়ে চলে গেছে ঝিরি হয়ে প্রথম ঝর্ণার দিকে।
 
কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে এবারে একই রাস্তা ধরে ফিরতি পথ ধরুন। ভরা বর্ষা হল ঝর্ণায় যাবার সেরা সময়। তবে এই ঝর্ণায় শীতকালেও পানি থাকে।
 
এই পানির উপর দিয়েই আপনাকে যেতে হবে ঝর্ণায়। ছবি: সংগৃহীত।
 
কিভাবে যাবেন: খাগড়াছড়িতে নেমে সরাসরি দীঘিনালা চলে আসলে ভাল হবে। রাতে থাকতে চাইলে দীঘিনালায় রেস্ট-হাউজ আছে। আগে থেকে যোগাযোগ করলে থাকার সমস্যা হবে না। না পেলে স্থানীয় লোকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকা সম্ভব।প্রথমবার গেলে অবশ্যই স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। না হলে পাহাড়ে-জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে নাজেহাল হতে পারার আশঙ্কা রয়েছে। গাইড পাবার বিষয়ে থানা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে সহায়তা নিতে পারেন।তাড়া থাকলে গাড়ি নিয়ে চাপ্পাপাড়া পর্যন্ত যেতে পারেন। হাতে সময় থাকলে দীঘিনালা থেকেই হেঁটে যেতে পারেন। চাপ্পাপাড়া থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। যদি তাড়াতাড়ি হাঁটতে পারেন তাহলে সন্ধ্যার মাঝেই ফিরে আসা সম্ভব।
 
ঢাকা থেকে শান্তি, শ্যামলী, হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ৫২০ টাকা। এছাড়াও বিআরটিসি (BRTC) ও সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাস (AC Bus) খাগড়াছড়ি যায়। শান্তি পরিবহনের বাস সরাসরি দীঘিনালা পর্যন্ত যায়। সেন্টমার্টিন পরিবহন (Saint Martin Paribahan) – আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ , ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮ । শ্যামলী পরিবহন – আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১ । কল্যাণপুরঃ ৯০০৩৩৩১ , ৮০৩৪২৭৫ । আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ , ৯১২৪৫৪ । দামপাড়া (চট্টগ্রাম) ০১৭১১৩৭১৪০৫ , ০১৭১১৩৭৭২৪৯ । শান্তি পরিবহন- আরামবাগ ( ঢাকা ) – ০১১৯০৯৯৪০০৭ । অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২ ।
 
চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । BRTC এসি বাস (চট্টগ্রাম) কদমতলীঃ ০১৬৮২৩৮৫১২৫ । খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭ ।খাগড়াছড়ি হতে বাসে করে আসতে হবে দীঘিনালায়। খাগড়াছড়ি -দীঘিনালা সময় লাগবে ৪০ মিনিট। ভাড়া ৬০ টাকা। এছাড়া আপনি চান্দের গাড়ি ভাড়াও করতে পারেন মানুষ বেশি হলে।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।