(প্রিয়.কম) ৩২০, ৯০, ১৪৭ ও ১৭২। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসগুলোর চেহারা এমন। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংস বাদে বাকি তিনটি ইনিংস নিয়ে আক্ষেপ সবার। এই তিনটি ইনিংস বাংলাদেশের ভাল খেলার সম্ভাবনার দুয়ারে ইতিমধ্যেই প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগেও একই দশা বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার ৫০ ওভারের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে ছয় উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। 

যদিও ওয়ানডের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে কিছুটা স্বস্তিই মিলেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে। ৪৮.১ ওভারে ১০ উইকেট হারালেও বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে জমা হয় ২৫৫ রান। একেবারে তো কম নয়। কিন্তু আমন্ত্রিত একাদশের ব্যাটিং দেখে মনে হল ৩৫০-৩৮০ রানের উইকেট ছিল এটি। এই উইকেটে রান না পাওয়াটা রীতিমতো বিস্ময়কর। বাংলাদেশের মতো উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসাটাও এই উইকেটের চরিত্রের সাথে বড্ড বেমানান।

দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ব্যাটিং করে মনে হতে পারে এটা ব্যাটিং উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামলেই অন্য চিত্র। প্রোটিয়া বোলাররা প্রমাণ করে দেন এটা বোলিং উইকেট। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স সেটাই বলে। যে উইকেটে রান পাহাড়ে ওঠেন স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা, সেই উইকেটেই ব্যাট হাতে উল্টো পথের যাত্রী বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। 

জেপি ডুমিনি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, এইডেন মার্করামরা এই দলে থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে দলের বেশিরভাগ সদস্যরা ছিলেন না। তাতেই ধুঁকে ধুঁকে হারতে হল বাংলাদেশকে। ব্যাট হাতে কিছুটা সাফল্য মিললেও বল হাতে অসহায় থেকে গেলেন মুস্তাফিজ, রুবেল, সাইফুদ্দিন, সাকিবরা। একটি করে উইকেট নিয়ে ভক্তদের সান্ত্বনা দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাসির হোসেন। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিয়েছেন দুটি উইকেট।

২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৭ রান যোগ করেন দুই ওপেনার এইডেন মার্করাম ও ম্যাথিউ ব্রিটজকে। এ সময় মনে হচ্ছিল এই দু’জনই খেলা শেষ করে ফিরবেন। তবে নাসির হোসেন সেটা হতে দেননি। ৮২ রান করা মার্করামকে ফেরান তিনি। এর কিছুক্ষণ মাশরাফির শিকারে পরিণত হন ৭১ রান করা ব্রিটজকে। আমন্ত্রিত একাদশের অধিনায়ক ডুমিনি ৩৪ রান করে মাহমুদউল্লাহর বলে আউট হন। ৪৩ রান করা ভিলিয়ার্সকেও ফেরান মাহমুদউল্লাহ। খায়া জন্ডো ১০ ও হেইনরিক ক্লাসেন ৫ রান করে দলকে জয় এনে দেন। 

ব্লুমফন্টেইনের মানগাউং ওভালের কিউরেটরও বলেছিলেন, ৩৫০-৪০০ রান করার মতো উইকেট এটা। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সেটা অজানা থাকার কথা নয়। এছাড়া উইকেট দেখেও সেটা বুঝতে পারার কথা। কিন্তু টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই সব গুলিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বলা হয়ে থাকে সৌম্য সরকার বাউন্সি উইকেটে ভাল খেলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা করে দেখাতে পারেননি তিনি।

চোট কাটিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরে দুই ইনিংস মিলিছে করেছেন ১২ রান। প্রস্তুতি ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাঁ-হাতি এই ওপেনার। তিন রান করেই সাজঘরে। ইমরুল কিছুটা লড়েছেন। কিন্তু ২৭ রান করেই তার বিদায়। লিটন কুমার দাসও হেঁটেছেন উল্টো পথে। আশা জাগিয়েও মুশফিকুর রহিম করেছেন ২২ রান। টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানই ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর মূলত ব্যাট হাতে লড়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান। মাহমুদউল্লাহ ২১ রান করে ফিরলে সাব্বির রহমানকে নতুন সঙ্গী হিসেবে পান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। গড়েন ৭৬ রানের জুটি। কেবল সাকিব, সাব্বিরই ব্যতিক্রম ছিলেন। ব্যর্থদের মিছিলের ভিড়েও এ দু’জন হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। সাকিব ৬৮ ও সাব্বির ৫২ রান করেন। আমন্ত্রিত একাদশের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রবি ফ্রাইলিংক, মালুসি সিবোতো, এম্বুলেলো বুডাজা ও অ্যারন ফাঙ্গিসো।  

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী ১৫ অক্টোবর। কিম্বার্লিতে প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে মাশরাফিবাহিনী। ২৮ অক্টোবর পার্লে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ২২ অক্টোবর ইস্ট লন্ডনে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লড়বে দুই দল। এরপর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা।