ছবি: সমকাল 

(প্রিয়.কম) বাঁশখালীর চাম্বল সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখন লোকালয়। যেখানে বন্যপ্রাণী আর গাছ থাকার কথা, সেখানে রাতারাতি গজিয়ে উঠছে শত শত বাড়িঘর। চাম্বল বনবিট কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ নিজেই বিক্রি করছেন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা। প্রকাশ্যে এসব বিক্রি করতে রাখা হয়েছে দালাল। দুই শতক জমি বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়। চাম্বল বনবিটে ২০০৮ সালে যোগদান করা এই কর্মকর্তার রাজত্ব ও প্রভাব-প্রতিপত্তিও যেন কম নেই। এসব ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে সুযোগ বুঝে মিথ্যা বন মামলায় জড়িয়ে দেন তিনি। অথচ যারা বনাঞ্চল দখল করে আছে এবং দিন-রাত গাছ কেটে বনাঞ্চল মরুভূমি করে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না।

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘বনের জায়গায় শত শত বাড়িঘর’ শিরোনামে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত এক সংবাদে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বনবিট কার্যালয়ের ১০০ গজের ব্যবধানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কয়েকশ' ঘরবাড়ি নির্মাণ করে মানুষ বসবাস করছে। রিজার্ভ ফরেস্ট বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল শুধুই নামে মাত্র। প্রত্যেক বাড়িঘরে বসবাসরতদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কয়েক বছরেই এসব বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। বনবিট কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ নিজেই স্থানীয় দালাল শহীদুল ইসলাম ওরফে তোতা মিয়া, এমরান রেজা, আনোয়ার হোসেন, জামাল হোসেন, মো. সরোয়ারসহ আরও কয়েকজনকে দিয়ে এসব জায়গা বিক্রি করিয়েছেন। দুই শতক জমি বিক্রি বাবদ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব বাড়িঘর উচ্ছেদ ঠেকাতে প্রতি মাসে মুরগি, হাঁস, গরুর মাংস, ছাগলের মাংস, বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ঘুষ দিতে হয়। নয়তো প্রতিদিন হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।

চাম্বল বিটের পাশে অবৈধভাবে বসবাস করা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার, বিউটি বেগম বলেন, আমরা বনবিট কর্মকর্তাকে টাকা দিয়েই ঘর নির্মাণ করেছি। জায়গার মালিক বন কর্মকর্তা। আমাদের উঠে যেতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা ফেরত দিলেই আমরা উঠে যাব, নচেৎ নয়। পশ্চিম চাম্বল সিন্ধিপাড়ার বাসিন্দা বজল আহমদ, আহমুদু ওরফে মাদু, মাইছাড়া বেগম, আলম, হাফছা বেগম বলেন, বনাঞ্চলে প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। প্রতিদিনই গাছ কাটছে। বনাঞ্চল এখন মরুভূমি। আমরা প্রতিবাদ করায় গাছ কাটার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। চাম্বল ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওসমান চৌধুরী বলেন, আগে দেখতাম বন কর্মকর্তারা বন রক্ষা করতেন। এখন দেখি তারাই বনের জায়গা, গাছ ও মাটি বিক্রি করে। বন কর্মকর্তাদের চলছে বন নিয়ে বাণিজ্য।

 

প্রিয় সংবাদ/খোরশেদ