রাজধানী এক্সপ্রেস। ছবি- সংগৃহীত।

দিল্লী, কাশ্মীর ভ্রমণ এখন হল আরও সহজ

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ পেতে যাচ্ছেন নতুন সুবিধা। ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন সার্ভিস।

আফসানা সুমী
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:১১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:১১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২


রাজধানী এক্সপ্রেস। ছবি- সংগৃহীত।

(প্রিয়.কম) নিজ দেশের অপরূপ সুন্দর জায়গাগুলো ভ্রমণের পর প্রথমেই মাথায় আসে পাশের দেশ ভারত ভ্রমণের কথা। আর ভারত ঘুরতে যাওয়া মানে যেন বিশ্ব দেখতে যাওয়া। মরুভূমি, বন, পর্বত, সমুদ্র কি নেই এখানে! আবার দূরত্ব কম হওয়ায় খরচটাও কম হয় এখানে। কিন্তু ভারত কাছের দেশ হলেও বিপত্তি বাঁধে ভারতে প্রবেশের স্থলবন্দর নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আপনার গন্তব্যটি কিলোমিটারে হিসেব করলে হয়ত খুবই কম কিন্তু ঘুরপথে যেতে হয় বলে অনেক সময় লেগে যায়। বলছি রেলযাত্রার কথা। 

ধরুন, আপনি চট্টগ্রামবাসী। দিল্লী বা কাশ্মীর যাবেন। অযথাই আপনাকে যেতে হবে কলকাতা। পাড়ি দিতে হবে ১০/১২ ঘন্টার বাসের পথ। তবে এই সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে। এখন এই লম্বা পথ আর পাড়ি দিতে হবে না চট্টগ্রামবাসীদের। শুধু চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ পেতে যাচ্ছেন নতুন এই সুবিধা। ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন সার্ভিস। সরাসরি যাবে দিল্লী পর্যন্ত। নতুন এই ট্রেন সার্ভিসের নাম রাজধানী এক্সপ্রেস।

ট্রেনের সময়সূচি-

অত্যাধুনিক এই ট্রেন যাত্রা শুরু করবে প্রতি সোমবার বিকেল চারটায়। দিল্লী পৌঁছবে বুধবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। আবার বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় দিল্লীর আনন্দবিহার রেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করবে ট্রেনটি। ত্রিপুরা এসে পৌঁছবে শুক্রবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে। 

তাই এবার সানন্দে আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করে ঘুরে আসুন দিল্লী বা কাশ্মীর। একইসাথে এই দিকের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো বেড়াতে যেতেও সুবিধা হবে আপনার। 

পাঠকের সুবিধার্থে ভারতের কোন অংশে ভ্রমণের জন্য কোন স্থলবন্দর ভালো হবে জানিয়ে দিচ্ছি- 

১। আপনি যদি দার্জিলিং, সান্দাকফু বা ডুয়ার্স যেতে চান তাহলে বেছে নিন চেংরাবান্ধা বা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
২। মেঘালয় বা শিলং যাওয়ার জন্য ডাউকি স্থলবন্দর সবচেয়ে ভালো হবে। 
৩। আসাম বা ত্রিপুরা বেড়ানোর জন্য আখাউড়া/আগরতলা স্থলবন্দর ব্যবহার করতে পারেন।
৪। কলকাতা ভ্রমণের জন্য অবশ্যই ভালো হবে হরিদাসপুর বা গেদে স্থলবন্দর।

তবে এই সবই একটা পরামর্শমাত্র। এই স্থলবন্দরগুলো ভারতের নির্দিষ্ট জায়গাগুলোর কাছে। তবে আপনি যদি বাংলাদেশের এমন অংশে বাস করেন যেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত অঞ্চলে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া স্থলবন্দরটি অনেক দূরে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার সুবিধামতো স্থলবন্দরটি ব্যবহার করুন। এজন্য বাংলাদেশের সমস্ত স্থলবন্দর এবং তাদের অবস্থানের একটি তালিকা তুলে ধরছি-

স্থলবন্দরের নাম           অবস্থান                     প্রবেশস্থল (ভারত/মায়ানমার)

বাংলাবান্ধা               তেতুলিয়া, পঞ্চগড়                   জলপাইগুড়ি

বেনাপোল                শারশা, যশোর                       চব্বিশ পরগনা

হিলি                     হাকিমপুর, দিনাজপুর               পশ্চিম দিনাজপুর

ভোমরা                 সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা            চব্বিশ পরগনা

সোনামসজিদ          শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ             মালদা

বিবির বাজার            কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা                  আগরতলা

টেকনাফ                 টেকনাফ, কক্সবাজার                  মুন্দু

হালুয়াঘাট               হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ                  থুরা

আখাউড়া               আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া              আগরতলা

বুড়িমারী                পাতগ্রাম, লাল মনিরহাট              মেখালিগঞ্জ

দর্শনা                     দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা                   নদীয়া

তামাবিল                  গোয়াইনঘাট, সিলেট                  শিলং

কিছু সাধারণ তথ্যঃ

১। বাংলাদেশ থেকে ভারতে সরাসরি শুধু একটি স্থলবন্দর দিয়েই যাওয়া যায়। সেটি হলো হরিদাসপুর/গেদে স্থলবন্দর। বাসে বা ট্রেনে এপথে সরাসরি কলকাতা পর্যন্ত যেতে পারবেন আপনি।

২। অন্য স্থলবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার পর্যন্ত আগে যেতে হবে। এরপর বর্ডারের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম শেষে যেতে স্থলপথে বর্ডার পাড়ি দিয়ে ওপার থেকে কোনো যানবাহনে নিজের গন্তব্যে যেতে পারবেন।

৩। আপনি যদি ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে নেপাল বা ভুটান যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। ট্রানজিট ভিসা নিলে আপনার সাধারণ ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৪। ভারতীয় ভিসা ফর্ম পূরণের পর জমা দেওয়ার মেয়াদ ৭ দিন পর্যন্ত।

৫। বাংলাদেশিদের ভারতে যাতায়াত সহজ করতে ভারত সরকার এখন অনেক নতুন সুবিধা দিচ্ছে। তার মধ্যে একটি হলো আপনি ভিসায় যে স্থলবন্দরের জন্যই আবেদন করুন না কেন সেই স্থলবন্দর তো বটেই পাশাপাশি হরিদাসপুর/গেদে স্থলবন্দরটিও ব্যবহার করতে পারবেন। এটি একটি সমন্বিত স্থলবন্দর সুবিধা। এই নিয়ম অনুযায়ী আপনি স্থলপথে হরিদাসপুর বা বেনাপোল, রেলপথে গেদে বা দর্শনা এবং বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত ২৪টি এয়ারপোর্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন, আপনার ভিসায় স্থলবন্দর হিসেবে যে জায়গাই উল্লেখ থাকুক না কেন! এমনকি ভিসায় উল্লেখিত স্থলবন্দর ব্যবহার না করলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে আপনার ভিসায় যদি হরিদাসপুর/গেদে স্থলবন্দরই থাকে তাহলে এটাই ব্যবহার করতে হবে। অন্য স্থলবন্দর ব্যবহার করা যাবে না।

তাহলে এবার সাজিয়ে ফেলুন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা। শুভ ভ্রমণ।

 

সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে - https://www.priyo.com/post।