(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্টে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে কক্সবাজারে গেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান।

০৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখানে এমিন এরদোয়ানকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে তারা টেকনাফের পথে রওনা হন।

তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ানের সঙ্গে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তুরস্কের ফার্স্ট লেডিকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্টে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর ১১ দিনে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

আর বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কক্সবাজারে টেকনাফের সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী আরও দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় নারী-শিশুসহ দশ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির চালানো নৃশংতার প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান নৃশংসতার অবসানে মায়ানমার সরকার যতদিন পদক্ষেপ না নিচ্ছে, ততদিন তাদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ থাকবে

০৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির পর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সফররত ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বিপর্যয়ের শেষ হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ধরনের সিদ্ধান্তই নিক না কেন ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন পাবে তারা।’

আর কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালিতে বনবিভাগের ৫০ একর জমিতে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর পালিয়ে আসা বহু হাজার রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে সেখানে রয়েছে। নতুন করে যারা আসছে, তাদেরও সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল