(প্রিয়.কম) ঈদুল আজহার ১৩ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১৪টি। এতে নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন। আহত ৬৯৬ জন। এই ১৩ দিনে দেশে সড়কসহ রেল ও নৌপথে ২৭২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৩২২ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৭৫৯ জন।

১৩ সেপ্টেম্বার বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য তুলে ধরে।

‘ঈদুল আজহার দুর্ঘটনা পরিসংখ্যান ২০১৭’ তুলে ধরার সময় সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের ঈদযাত্রায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মনিটরিং সেল ২৮ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে। এই সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি আঞ্চলিক দৈনিক এবং ১০টি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই চার দিনে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ২৭৫ জন আহত হয়।

প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত চার বছর ধরে তারা ঈদ কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। দেশের গণমাধ্যমগুলো এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করায় অনেক আগে থেকেই ঈদযাত্রা শুরু হয়। এতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়। তবে ফিরতি পথের যাত্রায় ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।

সমিতির প্রতিবেদনে এবারের ঈদযাত্রার সঙ্গে গত বছরের ঈদুল ফিতরের যাত্রার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ওই ঈদযাত্রায় ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৮ জন নিহত ও এক হাজার ৫৬ জন আহত হন। ২০১৬ সালে ট্রেনে কাটা পড়ে সাত জন নিহত হন। আর এবার ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন ৪৩ জন। আটটি নৌ দুর্ঘটনায় ২০১৬ সালে ১০ জন নিহত হয়। এবার ১৫টি নৌ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৫ জন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নয়টি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুপারিশ হলো সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠন, মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা, রোড সেফটি অডিট করা, রোড ডিভাইডার স্থাপন, নিরাপদ ও প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা এবং মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার চলাচল বন্ধ করা।

এসময় পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ খোকন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্টে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম তালুকদার বক্তব্য দেন।

প্রিয় সংবাদ/সজিব