১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ করছে। ফাইল ছবি

এশাকে লাঞ্ছিত করায় দুই ডজন ছাত্রলীগ নেত্রী বহিষ্কার

১০ এপ্রিলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

ইরফান-উল-হক
সংবাদকর্মী
১৬ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ২২:১৪


১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ করছে। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে লাঞ্ছিত ও জুতার মালা পরানোর ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে মোট ২৪জন ছাত্রলীগ নেত্রীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ

১৬ এপ্রিল, সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১০ এপ্রিলেরর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ী বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়া কামাল হলের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমও। যার রক্তাক্ত ছবি ঘটনার দিন ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন অনুষদ ও সুফিয়া কামাল হলের পদধারী নেত্রীরা রয়েছেন এ বহিষ্কারের তালিকায়।

ছাত্রলীগের সংবাদ  বিজ্ঞপ্তি।

উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে ইফফাত জাহান এশা মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। তিন ছাত্রীর মধ্যে আহত এক ছাত্রীর রক্তাক্ত পা, স্যান্ডেল ও ফ্লোরের বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অনেকেই এর প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ করেন। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা এশাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

ছাত্রীদের বিক্ষোভের এক সময় রাত ১টার দিকে হলে যান প্রাধ্যক্ষ সাবিকা রেজওয়ানা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী। তারও দেড় ঘণ্টা পর প্রক্টর জানান, এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

অন্যদিকে ওই রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে ইফফাত জাহান এশাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অবশ্য ১৩ এপ্রিল, শুক্রবার  ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রসঙ্গে বলা হয়, এশাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর ঘটনা তদন্ত করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার প্রতিবেদনে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ৮ এপ্রিল রবিবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে আসছিল ছাত্রলীগ। ওই দিন রাতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন। আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়াতেই সুফিয়া কামাল হলের কয়েক ছাত্রীকে মারধর করেন ইফফাত জাহান এশা, এমন অভিযোগ ছাত্রীদের।

প্রিয় সংবাদ/হিরা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
‘কেন শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হলো’
ইতি আফরোজ ১৬ জুলাই ২০১৮
মোবাইল ‘চুরি’র ঘটনায় নাকে খত, জরিমানা আড়াই লাখ টাকা
আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন ১৬ জুলাই ২০১৮
ট্রেন্ডিং