(প্রিয়.কম) মানহানি ও দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার দুই আদালত। এর আগে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার আদালত।

১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মানহানির মামলায় ঢাকার মহানগর হাকিম নুর নবী এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মানহানি মামলা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ২০১৬ সালে ৩ নভেম্বর ঢাকার হাকিম আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। 

মামলার আর্জিতে বলা হয়, ২০০১ সালে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জোট করে বিএনপি সরকার গঠন করেন। খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদর নেতা-কর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তাদের বাড়িতে এবং গাড়িতে তুলে দিয়েছেন, যার দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ ও মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকাকে অপমানিত করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবর হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সেদিনও তিনি আদালতে হাজির হননি। এ নিয়ে আজ আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম নুর নবী।

দুর্নীতি মামলা

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। পরে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলায় আজ আদালতে খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। সকালে চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকার কথা বলে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন পেছাতে ফের সময়ের আবেদন জানান তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। কিন্তু আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক আখতারুজ্জামান।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ