(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন বয়সের অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লক্ষ ৫০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সীমান্তে কাজ করা জাতিসংঘের কর্মীরা। এটা অনুমানভিত্তিক। কিন্তু ঘটনার মাত্রা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে ৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে বলে আশাঙ্কা জাতিসংঘের। 

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশ প্রধান দীপন ভট্টাচার্য আশঙ্কা করছেন, শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। এদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।

বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের সংখ্যার আধিক্যতার কারণে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা প্রত্যেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে। মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা ঠিকমতো খেতে পারছেন না। তাদের অনেকেই আহত কিংবা অসুস্থ।’

বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে বহু রোহিঙ্গা প্রাণ হারানোর পাশাপাশি পাচারকারীদের খপ্পরেও পড়ছেন বলে জানা যায়। দীপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘শরণার্থীরা আগে শুধু নৌকায় আসতো। আর এখন অনেকগুলো পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে। 

উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট প্রায় ৩০টি পুলিশ চেকপোস্টে সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। এ সংঘর্ষের জেরে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান পুনরায় জোরদা করা হয়। অভিযানের পর থেকে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামনে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

প্রিয় সংবাদ